মধ্যবিত্তের ছবি ‘দহন’

মধ্যবিত্ত সমাজ যুদ্ধ করে বাস্তবতার সঙ্গে। পৃথিবীর সমস্ত কঠিন বাস্তবতা যেন তাদের ঘিরেই তৈরি হয়। এক অদৃশ্য দেয়াল ঘিরে থাকে তাদের। তারা না পারে হার মানতে, না পারে জয়ী হতে। মধ্যবিত্তরা রয়ে যায় জয়-পরাজয়ের ঠিক মাঝখানটাতে।

ভাগ্য যেন তাদের জালের মধ্যেই রেখে দেয়। এমনই বাস্তবতার; বলতে হয় ঢাকার মধ্যবিত্তদের এমনই টানাপড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে শেখ নিয়ামত আলী রচিত এবং পরিচালিত “দহন” ছবিটিতে।

Dohonছবিটির শুরুই হয় মুনিরের চোখে আটকানো ঢাকার সদ্য গড়ে ওঠা বড় বড় ইমারত দিয়ে। ঢাকায় তৈরি হচ্ছে কালো টাকাওয়ালাদের দেয়াল। যে দেয়ালের তলে চাপা পড়বে মধ্যবিত্তরা। প্রধান চরিত্র মুনির ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে সব। ইট ভাঙছে মহিলা-শিশু। কিংবা মায়ের পাশে শিশু বসে আছে। Continue reading

যাপিত জীবনের অজানা ইতিহাস

নর্দমা থেকে উঠে আসা মাছিটা প্লেটের ভাতের উপর পড়লো। খুবই বিরক্তিকর। এই আকাল সময়ে, অভাবের ভেতর যখন একপ্লেট ভাতের মূল্য অনেক, তখন হারামজাদা মাছি পাশের নর্দমা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসলো। তার পায়ে নিশ্চয়ই পাশের বাড়ির দারোয়ানের পেশাপ লেগে আছে। পাশের বাড়ির দারোয়ান শেখ মতিন প্রায়ই এ নর্দমায় তার কাজ সারে। হলদে পেশাপের গন্ধে টিকা মুশকিল। তবুও এ নর্দমা ঘেষা টিনের ঘরেই আমাকে বাস করতে হয়।

কংক্রিটের অবহেলার মিথ্যামাখা শহরে নর্দমার পাশে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাওয়ার গল্প এ দেশের ইতিহাসে লেখা হবে না। রাষ্ট্র তো যুদ্ধের কথা পুঁথিবদ্ধ করে কিংবা রাজনৈতিক চোরদের কথাও লিখে রাখে। কিন্তু আমার মতো গ্রাম থেকে উঠে আসা গরীব সংসারের ছেলেরা প্রতিনিয়ত নিজের ভাগ্য ফেরাবার চেষ্টায় যে সংগ্রাম, যে যুদ্ধ করে চলে তাদের কথা কোথাও কখনও লেখা হয় না।

হতে পারে, যদি আমি মহান কোনো ব্যক্তিতে পরিণত হই। তখন আমার কষ্টের গল্প মানুষ শুনতে চাবে, পড়তে চাবে। তারপরও এ কষ্ট, এ বঞ্চনা, এ গ্লানিবোধ কেউ কখনও অনুভব করবে না।
time
বলছিলাম, নর্দমার মাছির কথা। মাছিটা আমার ভাতের উপর হেঁটে গেলেও কিছু করার নেই। ভাত আমাকে গিলতে হবেই। পকেটে ভাত কেনার পয়সা নেই। দিন আনি দিন খাই অবস্থায় আছি। এ ঘটনাটা অনেকটা আমার মতই।

Continue reading

হাল্কা প্রেমের গল্প

রাত হয়েছে। হিম শীতল হাওয়াতে জড়িয়ে যায় সাবেত। কিছুক্ষণ পরপর গাড়ির হর্নের আওয়াজ আসে। খুব জোরে নয়। মনে হয় আওয়াজগুলো খুব চুপে চুপে রাতের নিরবতা ভেদ করে এগিয়ে আসে। কিংবা আওয়াজটা সাবেতের কাছ হয়ে আরও দূরে গিয়ে হারিয়ে যায়।

সাবেতের হাতে সিগারেট। ধোঁয়া উড়ে। ধোঁয়াও হারিয়ে যায় বাতাসে।

বিষাক্ত ধোঁয়া কি বাতাসে চিরকাল থেকে যায়? এমন প্রশ্ন হুট করেই তার মনে আসে। সে ভাবে; আর সিগারেটে ফু-লাগায়। ধোঁয়া আবার বের হয়। আবার হারিয়ে যায়। ধোঁয়ার সাথে বাতাসের খেলা। মজা লাগে।

এমনই খেলা সে শুরু করেছিল মাসখানেক আগে। বন্ধুদের সাথে খেলা। অফিসে নতুন জয়েন করা সিনিয়র ম্যানেজার ম্যাডামের সাথে খেলা।

secretম্যাডাম দেখতে সুন্দর না। চেহারাতে বয়সের ছাপ আছে। বয়স হবে ৩৫ কিংবা ৩৬।ম্যাডাম খুব স্মার্ট। কথা বলার ভঙ্গিটা খুব সুন্দর। মায়া লাগে।

সেই মায়া লাগা থেকেই সাবেত তার কলিগদের বলত, ম্যাডাম কত্ত সুন্দর করে কথা বলে দেখেছেন? কলিগরা শুরুতে হাসতো। Continue reading