ফাহমিদুল হক ও প্রণব ভৌমিকের তারেক মাসুদ পাঠ

Tareq Masudচলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ সম্প্রতি সময়ে গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছেন। তারেক মাসুদকে নিয়ে গবেষণার কারণও আছে বৈকি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করা নির্মাতাদের মধ্যে তারেক মাসুদ ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

তারেক মাসুদকে নিয়ে ২০১৪ সালের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তেমনই একটি গবেষণাগ্রন্থ। এটি প্রণব ভৌমিকের মাস্টার্স থিসিসের ভিত্তিতে রচিত বলেই জানা যায়। তার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ফাহমিদুল হক।

শিক্ষক ফাহমিদুল হকই থিসিসটিকে সম্পাদনা ও পরিমার্জনা করে বইয়ে রূপ দিয়েছেন। বইটির নাম দিয়েছেন ‘তারেক মাসুদ জাতীয়তাবাদ ও চলচ্চিত্র’। রচনায় ফাহমিদুল হক এবং প্রণব ভৌমিক

যৌথ প্রয়াসে বইটি রচিত হলেও গবেষণার মূল কাজটি অবশ্য প্রণব ভৌমিক করেছেন বলে ধরে নেয়া যায়। Continue reading

জীবনের সব কাজই অসমাপ্ত থেকে যায়: ক্যাথরিন

 

১৩ আগস্ট, ২০১১। দুপুরের দিকে একটি অনলাইন পত্রিকায় দেখি “সড়ক দুর্ঘটনায় মিশুক মুনির-তারেক মাসুদ নিহত”। এই দুজন মানুষকেই সামনাসামনি দেখিনি। কথা হওয়া তো অনেক পরের কথা। মিশুক মুনিরকে চিনতাম এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী হওয়ার পর থেকে। তারেক মাসুদের সঙ্গে অবশ্য অনেক আগেই ‘মুক্তির গান’ ছবি দিয়ে পরিচয়।

এক বছর পর ১১ আগস্ট ২০১২। তারেক মাসুদের বাসায় গেলাম। কখনও ভাবিওনি তার বাসায় যাওয়া হবে। তাও আবার যখন তিনি এ পৃথিবীতে নেই। আধো আলোতে ভরা ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসলাম আমি ও বন্ধু আরমান। ক্যাথরিন তখন ফোনে কথা বলছিলেন। আমাদের দেখে ফোন কানে নিয়েই মুচকি হাসলেন। কিছুক্ষণ পরেই টিভি সাংবাদিকরা আসা শুরু করলো। তাদের কাছে ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে বলছিলেন, একসঙ্গেই নিয়ে নেন। আরমান বলল, না অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করছি।

অপেক্ষার পালা শেষ হলো ঘণ্টাখানেক পরে। আমরা বসলাম সামনা সামনি। কথা হলো। সকালের খবরের উদিসা ইমন আপাও ছিলেন। সেখানে যাওয়ার আগের রাত তারেক মাসুদকে নিয়ে পড়াশোনা করে গিয়েছিলাম। তার লেখা বই, পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ইন্টারভিউ। এমনকি মুক্তির গান ও মাটির ময়নাও দেখে গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য একটাই সাক্ষাৎকারটা যাতে ঠিক মতো নিতে পারি। তারেক মাসুদকে বোঝার চেষ্টাও ছিল।

একজন মানুষকে কখনও বোঝা সম্ভব হয় না। শুধু তার কাজের মধ্যে মানুষটার ভালোবাসার ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। অনুভব করা যায়।

 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ। দুরন্ত গতিতে যখন তারেক মাসুদ তার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে যায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের অদূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ ৫ জন। Continue reading