জীবনের সব কাজই অসমাপ্ত থেকে যায়: ক্যাথরিন

 

১৩ আগস্ট, ২০১১। দুপুরের দিকে একটি অনলাইন পত্রিকায় দেখি “সড়ক দুর্ঘটনায় মিশুক মুনির-তারেক মাসুদ নিহত”। এই দুজন মানুষকেই সামনাসামনি দেখিনি। কথা হওয়া তো অনেক পরের কথা। মিশুক মুনিরকে চিনতাম এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী হওয়ার পর থেকে। তারেক মাসুদের সঙ্গে অবশ্য অনেক আগেই ‘মুক্তির গান’ ছবি দিয়ে পরিচয়।

এক বছর পর ১১ আগস্ট ২০১২। তারেক মাসুদের বাসায় গেলাম। কখনও ভাবিওনি তার বাসায় যাওয়া হবে। তাও আবার যখন তিনি এ পৃথিবীতে নেই। আধো আলোতে ভরা ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসলাম আমি ও বন্ধু আরমান। ক্যাথরিন তখন ফোনে কথা বলছিলেন। আমাদের দেখে ফোন কানে নিয়েই মুচকি হাসলেন। কিছুক্ষণ পরেই টিভি সাংবাদিকরা আসা শুরু করলো। তাদের কাছে ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে বলছিলেন, একসঙ্গেই নিয়ে নেন। আরমান বলল, না অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করছি।

অপেক্ষার পালা শেষ হলো ঘণ্টাখানেক পরে। আমরা বসলাম সামনা সামনি। কথা হলো। সকালের খবরের উদিসা ইমন আপাও ছিলেন। সেখানে যাওয়ার আগের রাত তারেক মাসুদকে নিয়ে পড়াশোনা করে গিয়েছিলাম। তার লেখা বই, পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ইন্টারভিউ। এমনকি মুক্তির গান ও মাটির ময়নাও দেখে গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য একটাই সাক্ষাৎকারটা যাতে ঠিক মতো নিতে পারি। তারেক মাসুদকে বোঝার চেষ্টাও ছিল।

একজন মানুষকে কখনও বোঝা সম্ভব হয় না। শুধু তার কাজের মধ্যে মানুষটার ভালোবাসার ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। অনুভব করা যায়।

 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ। দুরন্ত গতিতে যখন তারেক মাসুদ তার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে যায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের অদূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ ৫ জন। Continue reading