‘ডুব’ নিয়ে কেন বিতর্ক?

1কথা ছিল আসবে ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’। কিন্তু হুট করেই সামনে হাজির হলো ‘ডুব’। তাও আবার ভারতের নামিদামি অভিনেতা ইরফান খান প্রধান ভূমিকায়। এসব নিয়েই আলোচনার মাঝখানে হুট করেই সামনে চলে আসলেন বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র হুমায়ূন আহমেদ। বিপুল জনপ্রিয়তার অধিকারী এই লেখকের ‘ছায়া’ নাকি আছে ‘ডুব’ সিনেমায়। তার ভক্তকূল বিতর্ক শুরু করলেন। তৈরি হলো পক্ষ-বিপক্ষ। যদিও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বরাবরই দাবি– ‘ডুব’ হুমায়ূনের বায়োপিক নয়। এতসব কিছুকে ছাপিয়ে মুক্তি পেল ‘ডুব’।

‘ডুব’ কেমন হলো?

‘ডুব’ আসলে কেমন সিনেমা? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, দর্শকরা ‘ডুব’কে ব্যাখ্যা করবেন নানান উপায়ে। তবে সত্যিকার অর্থে ডুব সিনেমায় এক নতুন ফারুকীকে আবিষ্কার করবে দর্শক। তার আগে ফয়সালা করা জরুরি, ফারুকী আসলে কেমন সিনেমা বানান? Continue reading

গাড়িওয়ালা: উৎসবে সচল গৃহে কেন অচল?

গাড়িওয়ালা২০১৫ সালে কোরবানির ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি আশরাফ শিশির পরিচালিত ‘গাড়িওয়ালা’। কারণ, ছবিটি এরই মধ্যে ১৯টি দেশের ৫৫টি শহরে ৫৫টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের যোগ্যতা  অর্জন করেছে। অর্জন করেছে ২১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। অথচ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর চিত্রটা পুরো উল্টে গেল।  প্রেক্ষাগৃহে কপি-পেস্ট ছবির ভিড়ে দর্শকের কাছে আগ্রহের ঘাটতি নিয়েই ‘গাড়িওয়ালা’র গাড়ি চলছে ঢিমেতালে। কারণটা আসলে কী? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা যাক। Continue reading

আশিকী: হিট না ফ্লপ?

আশিকীসিনেমা মুক্তির আগেই ‘হিট’। এমন ঘটনা আগে কম দেখা গেলেও বর্তমান সময়ে অহরহ ঘটছে।  তবে এখন সিনেমা কাহিনীর ওপর ভর করে হিট হয় না। এই ‘হিট’ বিষয়টা নির্ভর করছে সিনেমার নায়ক কিংবা নায়িকার ওপর কিংবা ওই সিনেমা নিয়ে কেমন আলোচনা হচ্ছে তার ওপর। সুতরাং এ বছর কোরবানির ঈদের ‘আশিকী’ ছবিকে মুক্তির আগেই ‘হিট সিনেমা’ বলা যেতে পারে। কারণ কত-কত আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এই ‘আশিকী’! জাজ মাল্টিমিডিয়ার নতুন অবিষ্কার নুসরাত ফারিয়ার গ্ল্যামার, তার সিনেমায় পদার্পণ, বলিউডে সিনেমা করার আমন্ত্রণসহ কত কী!

দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন এক নুসরাত ফারিয়া এবং দ্বিতীয়ত তার পাশে ক্ষীণ আলোয় ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

Continue reading

প্রতিটি নারীর জীবন এখনও ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’

আন্ডার কন্সট্রাকশানক্যামেরা যখন নারীর দিকে:

বিশ্বব্যাপী নির্মিত ছবিগুলোতে নারীর প্রকৃত অবয়ব যেন অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়। তার সংগ্রাম, চিন্তার গভীরতার চেয়ে স্ক্রিনে উঠে আসে তার গ্ল্যামার। অথচ নারীর যে আরও বহু পরিচয় আছে, সে গল্প বলবে কে? নারীর সেসব বয়ান নিয়েই হাজির হয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন। অধিকাংশ চলচ্চিত্রে যেমন পরিচালকের ক্যামেরা থাকে পুরুষের ওপর। নারীর ভাবনা, তার সংগ্রামের চিত্র উঠেই আসে না। সেখানে রুবাইয়াত নিলেন ইউটার্ন। তিনি ঘরের সেই নারীর দিকেই ক্যামেরা ধরলেন। আবিষ্কার করে দেখার চেষ্টা করলেন নারীর পরিচয়। যেন সারাক্ষণ তার প্রশ্ন, নারী তুমি কে? কি চাও তুমি?

Continue reading

হিট মাহি, ফ্লপ অগ্নি-২

চলতি বছরের ঈদে তিনটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। তার  মধ্যে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি ‘অগ্নি-২’র প্রতি আছে অধিকাংশ মানুষের আগ্রহ। তার কারণও আছে- গত বছর ‘অগ্নি (২০১৪)’ সিনেমার জনপ্রিয়তা। ‘অগ্নি’ ছবির গল্পের বুনন খুব একটা শক্ত না হলেও সেখানে দেখার মতো অনেক কিছুই ছিল। পর্দায় উপস্থাপনা, লোকেশন, ক্যামেরার কারুকাজ- সব কিছুই ছিল অসাধারণ। বাংলা সিনেমায় প্রোটোগনিস্ট (মূল চরিত্র) চরিত্রে নারীদের খুব কমই দেখা যায়।  মূল চরিত্রে নারীর ভূমিকা, তাও আবার অ্যাকশননির্ভর! এজন্যই ‘অগ্নি’ দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তখন ছবি দেখে চোখ বন্ধ করে অনেকেই বলেছে বাংলা সিনেমায় মাহিয়া মাহির অ্যাকশন নায়িকা হিসেবে ভবিষ্যত উজ্জ্বল। Continue reading

ছবিটি কি ছুঁয়েছে মন?

ছুয়ে দিলে মনবাংলাদেশে সিনেমার বাজার এখন অনেক প্রতিযোগিতার। হলিউড ঢুকে গেছে বহু আগেই, নতুন করে যোগ হয়েছে বলিউড অার টলিউড ছবি। এত প্রতিযোগিতার মধ্যে পরিচালক শিহাব শাহীন হাজির হয়েছেন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ নিয়ে। মূল অালোচনায় যাবার অাগে অনেক পুরনো একটি চ্যাপ্টার ‘ভালো প্রেক্ষাগৃহ সংকট’ নিয়ে পুনরায় কিছু কথা লিখতে হচ্ছে।

কঠিন এই সময়েও ঝলমলে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে সিনেমার বাজারকে। কিন্তু সমস্যা হলো ভালো প্রেক্ষাগৃহ নেই। হাতেগোনা যে কটা আছে, এর মধ্যে বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স অন্যতম। সেদিন মনে হয় শিহাব শাহীন এজন্যই বিচলিত ছিলেন। বিদেশি সিনেমার তোড়ে তার মিষ্টি প্রেমের গল্প দর্শক ‘খাবে’ তো? Continue reading

এত বিতর্ক কেন ‘জিরো ডিগ্রী’ নিয়ে?

Zero-Degree-4সম্প্রতি বেশ অালোচনায় অাছে নির্মাতা অনিমেষ আইচের প্রথম ছবি ‘জিরো ডিগ্রী’। এই ছবি প্রধানত তিনটি চরিত্রকে নিয়ে এগিয়ে গেছে। অমিত চরিত্রে মাহফুজ, নীরা চরিত্রে রুহি এবং সোনিয়া চরিত্রে জয়া। এটি দেখার সময় ভাবছিলাম, ছবিটিকে কোন মানদণ্ডে ফেলব- অ্যাকশন, অার্ট, রোমান্টিক, থ্রিলার নাকি ফ্যান্টাসি।

ছবির কাহিনী নিয়ে বিস্তর অালোচনার অবকাশ নেই। তবুও কিছুটা বলে নেওয়া যায়- এর গল্পের শুরু হয় মাহফুজ এবং রুহির সংসারের গল্প দিয়ে। শহুরে উচ্চমধ্যবিত্ত দম্পতি তারা। রাতে মদ-সিগারেটের অাড্ডা জমে তাদের বাসায়। দুজনের প্রেম, সুখ অার অানন্দ দিয়েই ছবির কাহিনী এগোয়। কাজে ব্যস্ত এই দম্পতির তবুও সন্তানের জন্য ভালোবাসা- স্নেহের কমতি নেই। অর্ক নামে একটি ছেলেকে দুজনই সমানভাবে সময় দেন, ভালোবাসা দেন। মাহফুজ অর্থাৎ অমিতকে পরিচালক সাদামাটা একজন মানুষ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। যেখানে এক জায়গায় মাহফুজ বলে, ‘অামি সাদামাটা, অামি হলাম ওপেন বুক, কোনো রহস্য নেই।’ অন্যদিকে রুহি অর্থাৎ নীরা ক্যারিয়ার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত গতিতে। ঘন ঘন দেশের বাইরে অফিসের কাজে যায় নীরা। এমনটাই পরিচালক বোঝাতে চেয়েছেন।
Continue reading

অগ্নি: নারীর এক ভিন্ন অবয়ব

Agneeবাংলাদেশে সবাক চলচ্চিত্রের বিকাশ শুরু হয় ১৯৫০ দশকে। বাংলাদেশের ‘চলচ্চিত্রকে’ পূর্ণমাত্রা পেতে সময় লেগেছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য থেকে জানা যায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খেতে চলচ্চিত্রের সময় লেগেছে প্রায় ৫০ বছর। ১৯৯০ এর দশকে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৮০টির মত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি পেত। হিসেবে দেখা যায় ২০০০ সালের পর তা সংখ্যায় ১০০-তে গিয়ে ঠেকেছে।

হিসেব যদি এমন হয়, তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পাড়ার পরিসরকে বেশ বড় বলেই বিবেচনা করা যায়। তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও মুলধারার ব্যবসায়ীক নির্ভর সিনেমায় অনেক সময় পরিবর্তনের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্বাধীনতার পূর্বে জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্র শাসকগোষ্ঠীকে ব্যঙ্গ করে নতুন একটি স্টাইলের জন্ম দিতে সমর্থ হয়েছিল। এছাড়াও স্বাধীনতার পূর্বে কবীর চৌধুরী,সাজেদুল আওয়াল, তানভির মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম, তারেক মাসুদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভিন্নভাবে গল্প বলার চেষ্টা করেছেন এবং করছেনও। Continue reading

পুঁজিবাদের আড়ালে ব্লাড ডায়মন্ড!

blood diamond

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে বহু চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হলিউডের চলচ্চিত্রে এসব দাঙ্গার চিত্র ফুটে উঠতে দেখা গেছে। তেমনই একটি ছবি ‘ব্লাড ডায়মন্ড’। এডওয়ার্ড জিকের পরিচালনায় ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সিয়েরা লিওনের পটভূমিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ব্লাড ডায়মন্ড। এই সিনেমা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক গ্রেগ ক্যাম্বেল ২০০১ সালে দেশটিতে গিয়ে সরেজমিনে ডায়মন্ড ব্যবসা দেখার পর ২০০২ সালে প্রকাশ করেন তার অন্যতম বই ‘ব্লাড ডায়মন্ড- ট্রেসিং দ্য ডেডলি পাথ অব দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট প্রিশিয়াস স্টোন্স’।
Continue reading

বিচারে-বিশ্লেষণে ‘আকাশ কত দূরে’

Akash Koto Dureচলচ্চিত্র সমালোচনা বিষয়টি খুব খারাপ। পরিচালকের তীব্র সংগ্রামের মধ্যেই তৈরি হয় একটি সিনেমা। অনেক কষ্ট-হতাশা-ক্ষোভ-পরিশ্রম থাকে সিনেমায়। কিন্তু সিনেমাহল থেকে বের হয়ে কোনো দর্শক যদি বলে বসে, ‘নাহ্ ছবি জমে নাই’। তখন যেন পরিচালকের সব শ্রমই বৃথা গেল!

২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় সামিয়া জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আকাশ কত দূরে’। এটি সামিয়া জামানের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। সরকারি অনুদানে তার প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র।

সিনেমাটি তৈরিতে সহযোগী হয়েছেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও ভার্সা মিডিয়া। জুলফিকার রাসেলের রচনা ও চিত্রনাট্যে তৈরি হয়েছে আকাশ কত দূরে। Continue reading