জাতি ঘুরে দাঁড়াবেই: রিটন

আমি যখন ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ি তখন বাসায় একটা পত্রিকা আসতো। নাম ছিল ‌”ছোটদের কাগজ”। আমার বড় ভাই পত্রিকাটি আনতেন। সেই পত্রিকাতেই আমার নাম প্রথম ছাপা অক্ষরে দেখলাম। ছোটদের নিয়ে পত্রিকা বলতে গেলে নেই। ভালো মানের পত্রিকার অভাব। আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম। কারণ, আমার ছোটবেলায় “ছোটদের কাগজ” পত্রিকা বের হতো। আর এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন লুৎফর রহমান রিটন। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। 

একদিন ফেসবুকে রিটন ভাইকে বললাম, আপনার একটা ইন্টারভিউ নেব। তিনি রাজি হলেন। এবং কথাও বললেন। এই সাক্ষাৎকারটি বাংলানিউজে ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছিল। 

লুৎফর রহমান রিটন জনপ্রিয় ছড়াকার। আশি ও নব্বইয়ের দশকে নিজেকে সাহিত্যের এই ভিন্ন ধারায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০১ এ জাপান দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর চাপের মুখে রিটন ২০০২ সালের এপ্রিলে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। সে সময় থেকেই তিনি কানাডাতেই অবস্থান করছেন। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি তার পাসপোর্ট ফিরে পান এবং প্রায় সাত বছর পর দেশে আসেন। Continue reading

ক্রিয়েটিভ কাজে ভিন্নমাত্রা যোগ করে প্রযুক্তি: রাশিদ খান

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই হচ্ছেন রাশিদ খান। ক্রিয়েটো নামে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। ২০১০ সালের শেষের দিকে এক বিকালে তার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয়। তখন আমি বেকার ছিলাম। বেকারের কাজ বিভিন্ন পত্রিকার জন্য ইন্টারভিউ করা। আমিও সেজন্য গিয়েছিলাম। সে ইন্টারভিউ বহুদিন পর বাংলানিউজে প্রকাশ পায়। অবশ্য ততদিনে কপালে চাকরি জুটে গেছে। 

ইন্টারভিউটাকে সাধারণ ফরমেটের বাইরে লেখার চেষ্টা করেছি। যেটাকে বলা যায় ফিচার টাইপ লেখা।  

———————-

একদম কলেজ জীবন থেকেই আগ্রহ ছিল ছবি আঁকায়। রঙের মাঝেই তিনি নিজের স্বপ্নগুলোকে খুঁজে পেতেন। সেই রঙের স্বপ্নকে সত্যি করতে গিয়ে শুরু করেন ‘ক্রিয়েটো’। মানুষটির নাম রাশিদ খান। হাসি মুখে তিনি বলেন, ‘ক্রিয়েটো থেকে আমরা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, স্টেইজ ডিজাইন, বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনসহ ক্রিয়েটিভ সব কিছুই করি।’ Continue reading

প্যারি রিভিউয়ে প্রকাশিত হোসে সারামাগোর সাক্ষাৎকার থেকে

নোবেল কমিটির তালিকায় নাম ছিল বটে, কিন্তু পাবেন পাবেন করেও বহুকাল পুরস্কারের শিঁকে আর ছেঁড়েনি। অবশেষে ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর পর্তুগালের প্রথম সাহিত্যিক হিসেবে নোবেল পেয়েছিলেন হোসে সারামাগো। নোবেল পাওয়ার পর পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করাটাকে আমি নোবেল পাওয়ার পর এমন দায়িত্ব হিসেবে নেব না যেভাবে সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা নেয়। এমন আসনে কি নিজেকে বসানো উচিত? অবশ্যই না।

হোসে সারামাগো ১৯২২ সালে পূর্তগালের এক ভূমিহীন কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সারামাগোর দুই বছর বয়সে তারা পুরো পরিবার লিসবনে চলে যায়, যেখানে তার বাবা পুলিশের চাকরি করতেন। কিশোর বয়সে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সারামাগোকে ভর্তি হতে হয় ভোকেশনাল স্কুলে, সেই সময় থেকে তিনি রকমারি চাকরিও করতে থাকেন। যেমন, মেকানিকের কাজ।

১৯৪৭ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে সারামাগোর প্রথম উপন্যাস “Land of Sin” প্রকাশিত হয়। নামটি দিয়েছিলেন তার প্রকাশক। উপন্যাসটির আসল নাম ছিল “The Widow”। এরপর ১৯ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৬৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ “The Possible Poems” প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৭৭ সালে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস “Manual of Painting and Calligraphy” প্রকাশিত হয়। মাঝখানে সারামাগো সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে যুক্ত হন পর্তুগালের কমিউনিস্ট রাজনীতিতে। Continue reading

নাগিব মাহফুজের সাক্ষাৎকার

নাগিব মাহফুজ (১১ ডিসেম্বর, ১৯১১-৩০ আগস্ট, ২০০৬) মিশরীয় লেখক। ১৯৮৮ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে ২০০৬-এর মার্চ মাসে তার এই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন আরেক মিশরীয় লেখক মোহামেদ সালমায়ি।
…………………………………………………..
সালমায়ি : যখন শুনলেন সাহিত্যে আপনি নোবেল পেয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?

নাগিব: আমি প্রচণ্ড আনন্দিত এবং অবাকও হয়েছিলাম। কখনও আশা করিনি যে আমি এই পুরস্কারটি পাবো। আমার লেখালেখির সময়টাতে অসাধারণ সব লেখকরা নোবেল পেয়েছিলেন। যেমন, অ্যানাতোল ফ্রাঁস, বার্নাড শ’, আরনেস্ট হ্যামিংওয়ে, উইলিয়াম ফকনার। আমি শুনেছিলাম যে আরবীয় লেখকরা হয়তো কোন একদিন নোবেল পেয়ে যাবে। কিন্তু সেটা যে আমি হবো, তা ভাবিনি। Continue reading