লেখা নিয়ে লেখা

লেখা নিয়ে লেখা: আনিসুল হকআনিসুল হক বাংলা সাহিত্যের অন্যরকম একটি নাম। যেই মানুষটি কথ্যভাষাকে সাহসের সঙ্গে নাটকের ভাষায় নিয়ে এসেছেন তিনিই আনিসুল হক। এই ধরনের ভাষার নামকরণও করেছেন কেউ কেউ। কেউ বলেন, ‘ফারুকীয় ভাষা’ (আনিসুল হকের চিত্রনাট্য নিয়ে বেশ কয়েকটি নাটক নির্মাণ করেন ফারুকী। তার চরিত্রগুলোর ভাষা নিয়ে আছে ব্যাপক সমালোচনা আলোচনা। অনেকেই আইছি-করছিলাম-গেছিলাম জাতীয় ভাষাকে বলতে চান ফারুকীয় ভাষা। যদিও এটাকে ঢাকার উৎপাদন হওয়া একটি ভাষা হিসেবেই আমি বিবেচনা করি )। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন লেখা নিয়ে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল ২০১১ সালে। বইটির নাম ‘লেখা নিয়ে লেখা’।

আর সেই সূত্রে আমার এই রিভিউটিকে বলতে পারেন “আলোচনা নিয়ে আলোচনা”। Continue reading

গ্রন্থালোচনা : ইতিহাসের পাতায় জিয়া-মঞ্জুর-এরশাদ ত্রয়ী

বইবাংলাদেশের সামরিক অভ্যুত্থানগুলোর পেছনের ইতিহাস অনেকটাই অজানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ঠিক কতগুলো সামরিক ক্যু/ প্রতিক্যু হয়েছে, তা বের করা রীতিমতো গবেষণার বিষয়।

তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড এখনো জাতির কাছে অস্পষ্ট। যদিও তাঁর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুরকে অভিযুক্ত করেন কেউ কেউ। তাঁকে আটকও করা হয়। কিন্তু সেনা বিদ্রোহের দায়ে তাঁর বিচার করে শাস্তি দিয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ইতিহাস একে বিচার নয়, হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। এ বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। Continue reading

মেহেদী উল্লাহ’র আজব জিজ্ঞাসা

মেহেদী উল্লাহ'র বই

মেহেদী উল্লাহ’র বই

‘আপনারা কোনো ফ্ল্যাটে না গিয়েই কীভাবে বা কিসের ওপর ভিত্তি করে বলতে পারবেন যে, ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটগুলো শিশু ও বৃদ্ধদের বাস উপযোগী না?’ সুনিবিড় আবাসন প্রকল্পের সাবেক ম্যানেজার এই জাতীয় জিজ্ঞাসার সূত্রপাত করেন। আসলে এই জিজ্ঞাসা লেখক মেহেদী উল্লাহ ‘ফ্ল্যাটে শিশু ও বৃদ্ধ নিদারুণ’ গল্পের মাধ্যমে তুলে আনেন। গল্পের প্রধান চরিত্র মুকিত সাহেব চাকরি ছেড়ে এক পক্ষীশালা দিয়েছেন। লেখক অবশ্য এটাকে পক্ষীশালা বলতে নারাজ, কারণ এখানে আরও অনেক প্রাণি আছে। তো, এই মুকিত সাহেব সবাইকে এই প্রশ্ন করেন। যা তার কাছে এক ধাঁধা! Continue reading

Women on Screen: ভিডিও আলোচনা

চলচ্চিত্রে নারী

Continue reading

বিখ্যাত লেখকের “গল্পতুচ্ছ”

10428049_790722654336024_8505702358298027360_nঅনেকদিন ধরে ভাবছিলাম একজন বিখ্যাত লেখকের বই নিয়ে অালোচনা করবো। কিন্তু বিখ্যাত লেখক পাবো কোথায়? লেখক তো সব লেখকই রয়ে গেল, বিখ্যাত কেউ হতে পারলো না। অবশেষে এবছরের বইমেলায় একজন বিখ্যাত লেখকের সন্ধান পেয়ে গেলাম।

প্রিয় বন্ধুরা তিনি হলেন স্ব-ঘোষিত বিখ্যাত লেখক। এ প্রসঙ্গে অবশ্য বইয়ের শেষে লেখক পরিচিতির মধ্যে বলা অাছে- “নিজের ঢোল পেটানোর ব্যাপারেও তার অাগ্রহের কমতি নেই”। সম্প্রতি সময়ে সবাই নিজের ঢোল নিজেই পেটায়। সমস্যা হলো কেউ ইনিয়ে-বিনিয়ে পেটায় অার এই বিখ্যাত লেখক সরাসরি সাহসের সঙ্গে পেটান।

প্রিয় বন্ধুরা, অামি ‘অাশীফ এন্তাজ রবি’ রচিত একটি বই নিয়ে অালোচনা করবো। বইয়ের নাম “গল্পতুচ্ছ”। Continue reading

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত জীবনী’র অসমাপ্ত রিভিউ

bangabandhu_phবঙ্গবন্ধু একজন নেতা। তিনি কোনো সাহিত্যিক কিংবা কবিও নন। তবে ৭ মার্চে ভাষণের পর তাকে কবি বলতে কারও কোনো আপত্তি থাকারো কথা নয়। কবিতার ছন্দে ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তবে সাহিত্যিক এবং কবির মধ্যে একটি মিল আছে। সেই বিখ্যাত উক্তির মতো করেই বলা যায়, Political Leaders are like poets, born, not made.

যাইহোক। বঙ্গবন্ধু নিজের লেখা আত্মজীবনী নিয়ে অনেকের কথাই শুনি। মন্তব্য কার কি কিংবা কি ধরনের সে বিষয়ে আমি যাবো না। তবে তার লেখায় তিনি নিজে যে পুনরায় প্রাণ পেয়েছেন সে বিষয়ে সন্দেহ নাই।

আমার বিষয় শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি নিয়ে। আত্মজীবনী কেমন হয়? সে বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। আত্মজীবনী মানে নিজের ঢোলটা বেশি পেটানো। নিজেকে ফুটিয়া তোলা। নিজের ভালো দিকগুলা সবার সামনে তুলে বলা, ‘এই হইলাম আমি’। সবকিছুর উর্ধ্বে আমিই ছিলাম। আমি হইলাম আসল হিরো। 

তবে সত্যি কথা বলতে হইলো, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু হিরো নন। হিরো হইলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। অধিকাংশ অধ্যায় জুড়েই সোহরাওয়ার্দীর কথাই বলতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তার রাজনৈতিক জীবনে শহীদ সাহেবের প্রভাব যে কতটা স্পষ্ট তা বইটি পড়লেই ঝকঝক হয়ে উঠবে। Continue reading

ফাহমিদুল হক ও প্রণব ভৌমিকের তারেক মাসুদ পাঠ

Tareq Masudচলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ সম্প্রতি সময়ে গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছেন। তারেক মাসুদকে নিয়ে গবেষণার কারণও আছে বৈকি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করা নির্মাতাদের মধ্যে তারেক মাসুদ ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

তারেক মাসুদকে নিয়ে ২০১৪ সালের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তেমনই একটি গবেষণাগ্রন্থ। এটি প্রণব ভৌমিকের মাস্টার্স থিসিসের ভিত্তিতে রচিত বলেই জানা যায়। তার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ফাহমিদুল হক।

শিক্ষক ফাহমিদুল হকই থিসিসটিকে সম্পাদনা ও পরিমার্জনা করে বইয়ে রূপ দিয়েছেন। বইটির নাম দিয়েছেন ‘তারেক মাসুদ জাতীয়তাবাদ ও চলচ্চিত্র’। রচনায় ফাহমিদুল হক এবং প্রণব ভৌমিক

যৌথ প্রয়াসে বইটি রচিত হলেও গবেষণার মূল কাজটি অবশ্য প্রণব ভৌমিক করেছেন বলে ধরে নেয়া যায়। Continue reading

বিধান রিবেরুর শাহবাগ ভাবনা

…ধর্মকে ব্যবহার করিয়া স্বার্থসিদ্ধি বা সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর কুৎসা মতলবটা-পুনর্পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। যাহাতে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের মতলববাজদের চরিত্রের সঙ্গে আজিকার মতলববাজদের চেহারা মিলাইয়া লওয়া যায়, যাহাতে ইতিহাসের করুণ দিকটার সঙ্গে আজিকার অগ্রগতিকেও কটাক্ষ করা যায়…

Shahbagধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার প্রসঙ্গে তুলে বিধান রিবেরু তার “শাহবাগ রাজনীতি। ধর্ম। চেতনা” বইয়ে এভাবে সাম্প্রদায়িকতার নিয়ে বয়ান দেন। Continue reading

সালেক খোকনের “রক্তে রাঙা একাত্তর”: ভিডিও রিভিউ

মশিউল আলমের “পাকিস্তান”:: ইতিহাস এবং রাজনৈতিক গল্প

সাংবাদিকদের সাহিত্যে থাকে রাষ্ট্র, ইতিহাসের বিশ্লেষণ। সকল সমস্যা কিভাবে শেঁকড় বিস্তার করে সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে ঢুকে যায় তা খুব অসাধারণভাবে একমাত্র সাংবাদিকরাই প্রকাশ করতে পারেন। আর এর প্রমাণ পাই মশিউল আলমের গল্পগ্রন্থ “পাকিস্তান” পড়ার পর। নামটাই সকলের মনের মাঝে প্রশ্ন তৈরী করবে। যখন সারাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে হাউকাউ চলছে ঠিকই এই মুহূর্তে একটি বইয়ের নাম ‘পাকিস্তান!’

Pakistanএই গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে মোট নয়টি গল্প। প্রতিটি গল্পে উঠে এসেছে রাষ্ট্র, ইতিহাস, রাজনীতি। এছাড়া সাংবাদিকতা জীবনের কয়েকটি অভিজ্ঞতাও তুলে এনেছেন মশিউল আলম। প্রথম গল্প ‘ঘোড়া’। এই গল্পে আছে এক কাল্পনিক ঘোড়ার কথা। সেই শাদা ঘোড়াটির পাখা ছিল। ঘোড়াটিকে গল্পের চরিত্রটি বারবার স্বপ্নে দেখে। ঘোড়াটি দৌড়াতো না। শুধু উড়তো। তবে লেখক খুব আশ্চর্যভাবেই বলেন যে, এই ঘোড়া নাকি তিনি স্ব-চক্ষে দেখার আগেই স্বপ্নে দেখে ফেলেছেন। ঘোড়াটি নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন ইতিহাসের নানা প্রেক্ষাপটে। নানান ঘটনায় পাখাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে বেড়াবে পাঠক। আবার একই ঘোড়া তার সন্তান দেখে। সন্তানও দেখে ঘোড়া উড়ছে। তাই সে তার বাবাকে বলে,

‘ঘোড়া তো পাখি না, ঘোড়ার কেন পাখা থাকবে!’ Continue reading