লেখা নিয়ে লেখা

লেখা নিয়ে লেখা: আনিসুল হকআনিসুল হক বাংলা সাহিত্যের অন্যরকম একটি নাম। যেই মানুষটি কথ্যভাষাকে সাহসের সঙ্গে নাটকের ভাষায় নিয়ে এসেছেন তিনিই আনিসুল হক। এই ধরনের ভাষার নামকরণও করেছেন কেউ কেউ। কেউ বলেন, ‘ফারুকীয় ভাষা’ (আনিসুল হকের চিত্রনাট্য নিয়ে বেশ কয়েকটি নাটক নির্মাণ করেন ফারুকী। তার চরিত্রগুলোর ভাষা নিয়ে আছে ব্যাপক সমালোচনা আলোচনা। অনেকেই আইছি-করছিলাম-গেছিলাম জাতীয় ভাষাকে বলতে চান ফারুকীয় ভাষা। যদিও এটাকে ঢাকার উৎপাদন হওয়া একটি ভাষা হিসেবেই আমি বিবেচনা করি )। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন লেখা নিয়ে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল ২০১১ সালে। বইটির নাম ‘লেখা নিয়ে লেখা’।

আর সেই সূত্রে আমার এই রিভিউটিকে বলতে পারেন “আলোচনা নিয়ে আলোচনা”। Continue reading

গাড়িওয়ালা: উৎসবে সচল গৃহে কেন অচল?

গাড়িওয়ালা২০১৫ সালে কোরবানির ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি আশরাফ শিশির পরিচালিত ‘গাড়িওয়ালা’। কারণ, ছবিটি এরই মধ্যে ১৯টি দেশের ৫৫টি শহরে ৫৫টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের যোগ্যতা  অর্জন করেছে। অর্জন করেছে ২১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। অথচ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর চিত্রটা পুরো উল্টে গেল।  প্রেক্ষাগৃহে কপি-পেস্ট ছবির ভিড়ে দর্শকের কাছে আগ্রহের ঘাটতি নিয়েই ‘গাড়িওয়ালা’র গাড়ি চলছে ঢিমেতালে। কারণটা আসলে কী? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা যাক। Continue reading

গ্রন্থালোচনা : ইতিহাসের পাতায় জিয়া-মঞ্জুর-এরশাদ ত্রয়ী

বইবাংলাদেশের সামরিক অভ্যুত্থানগুলোর পেছনের ইতিহাস অনেকটাই অজানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ঠিক কতগুলো সামরিক ক্যু/ প্রতিক্যু হয়েছে, তা বের করা রীতিমতো গবেষণার বিষয়।

তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড এখনো জাতির কাছে অস্পষ্ট। যদিও তাঁর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুরকে অভিযুক্ত করেন কেউ কেউ। তাঁকে আটকও করা হয়। কিন্তু সেনা বিদ্রোহের দায়ে তাঁর বিচার করে শাস্তি দিয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ইতিহাস একে বিচার নয়, হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। এ বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। Continue reading

প্রতিটি নারীর জীবন এখনও ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’

আন্ডার কন্সট্রাকশানক্যামেরা যখন নারীর দিকে:

বিশ্বব্যাপী নির্মিত ছবিগুলোতে নারীর প্রকৃত অবয়ব যেন অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়। তার সংগ্রাম, চিন্তার গভীরতার চেয়ে স্ক্রিনে উঠে আসে তার গ্ল্যামার। অথচ নারীর যে আরও বহু পরিচয় আছে, সে গল্প বলবে কে? নারীর সেসব বয়ান নিয়েই হাজির হয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন। অধিকাংশ চলচ্চিত্রে যেমন পরিচালকের ক্যামেরা থাকে পুরুষের ওপর। নারীর ভাবনা, তার সংগ্রামের চিত্র উঠেই আসে না। সেখানে রুবাইয়াত নিলেন ইউটার্ন। তিনি ঘরের সেই নারীর দিকেই ক্যামেরা ধরলেন। আবিষ্কার করে দেখার চেষ্টা করলেন নারীর পরিচয়। যেন সারাক্ষণ তার প্রশ্ন, নারী তুমি কে? কি চাও তুমি?

Continue reading

মেহেদী উল্লাহ’র আজব জিজ্ঞাসা

মেহেদী উল্লাহ'র বই

মেহেদী উল্লাহ’র বই

‘আপনারা কোনো ফ্ল্যাটে না গিয়েই কীভাবে বা কিসের ওপর ভিত্তি করে বলতে পারবেন যে, ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটগুলো শিশু ও বৃদ্ধদের বাস উপযোগী না?’ সুনিবিড় আবাসন প্রকল্পের সাবেক ম্যানেজার এই জাতীয় জিজ্ঞাসার সূত্রপাত করেন। আসলে এই জিজ্ঞাসা লেখক মেহেদী উল্লাহ ‘ফ্ল্যাটে শিশু ও বৃদ্ধ নিদারুণ’ গল্পের মাধ্যমে তুলে আনেন। গল্পের প্রধান চরিত্র মুকিত সাহেব চাকরি ছেড়ে এক পক্ষীশালা দিয়েছেন। লেখক অবশ্য এটাকে পক্ষীশালা বলতে নারাজ, কারণ এখানে আরও অনেক প্রাণি আছে। তো, এই মুকিত সাহেব সবাইকে এই প্রশ্ন করেন। যা তার কাছে এক ধাঁধা! Continue reading

ফারুকীর কৃষ্ণকলি

Modelসুন্দর। তুমি বড় সুন্দর। যদিও এ জগতের মানুষ সুন্দরের ব্যাখ্যা অাজও ঠিক করে নিতে পারেনি। কারও চোখে কালো সুন্দর, কারও চোখে ফর্সা সুন্দর। কারও কাছে লম্বা কেশ কিংবা দেহের গঠন। কারও কাছে সুন্দর করে কথা বলতে পারাও সুন্দর। তবে কী সুন্দরের কোনো সংজ্ঞা নেই?

অাছে তো! বিশেষ করে নারীর সৌন্দর্য নিয়ে তো অালোচনার শেষ নেই। নারীর অবয়ব কে বা কারা নির্ধারণ করে দেয়? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই সামনে দাঁড়িয়ে যাবে মিডিয়া। তারাই সমাজকে বলে দেয় সুন্দরের সংজ্ঞা। মিডিয়া বা গণমাধ্যম বলতে কতকিছুই তো অাছে। নাটক অাছে, সিনেমা অাছে, বিজ্ঞাপন অাছে। এসবের দিকেই তো সবার নজর। ঘরে ঘরে মেয়েরা তো সাজগোজে মিডিয়ার নারী ক্যারেক্টার ফলো করে থাকে। কিংবা তাদের স্টাইলকে মডিফাই করে নিজের একটা স্টাইল তৈরি করে নেয়। সেটাকে সুন্দর হিসেবে কী ধরে নেয়া যায়?

নাহ! সুন্দর নারী মানে তার সব কিছু। দেখতে ফর্সা, লম্বা, দৈহিক গঠন অাবেদনময়ী, লম্বা কেশ, টানা টানা চোখ। সব মিলিয়েই তো সুন্দর। তবে সুন্দর কাহাকে বলবো? এই প্রশ্নের উত্তরে অামার মুখ থেকেই প্রথম বের হবে, “ফর্সা”।

Continue reading

নির্বাচনকালীন সংকট: সমাধান কোথায়?

EC_1জাতীয় সংসদ নির্বাচন বলতে আসলে কি বোঝায়? এমন প্রশ্ন প্রায়ই আমার মনে উদয় হয়। নির্বাচনের রূপ আমার কাছে অনেকটাই আতংকের মতো শোনায়। উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন সভা ও এটি এক কক্ষ বিশিষ্ঠ। এ আইন সভার জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়।

এছাড়াও ৫০ জন মহিলা সংসদ সদস্য সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরূপে মনোনীত হন। নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রীই হলেন সরকার প্রধান। রাষ্ট্রের প্রধান হলেন একজন রাষ্ট্রপতি যিনি জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদ হলো আনুষ্ঠানিকতা, প্রকৃতপক্ষে সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে সরকার প্রধানের হাতে।

আপাতত ক্ষমতার এ সংজ্ঞাটিকেই মেনে নেই। একটু নজর দেই আমাদের নির্বাচনগুলোর দিকে। বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এদেশের গণতন্ত্র যাত্রা শুরু করে ১৯৯১ সালের নির্বাচন দিয়ে। ছক দিয়েই এখন পর্যন্ত সবগুলো নির্বাচনের অবস্থাটি দেখি। Continue reading

দুই মার্কার প্রতি সমবেদনা!

2-netri-01দুই নেত্রীর ফোনালাপে সমাধান আসবে। এমন আশায় ২৬ অক্টোবর থেকে সবার নজর ছিল গণমাধ্যমগুলোতে। কখন দুজনের কথা হবে। দুপুরেই জানা গেল বিএনপি নেত্রীর রেড ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করেও পাননি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। গুঞ্জন তখনই শুরু। সোশ্যাল মিডিয়া চটকদার স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি হাস্যকর হয়ে উঠছিল। অন্যদিকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে ফোন দেওয়ার জন্য। আর তাছাড়া নেত্রীর রেড ফোন নষ্ট।

দুই নেত্রীর পরীক্ষা যেন তখনই শুরু। ইগো`র দেয়াল ভেঙে কে কাকে ফোন দেবেন? সবাই ভাবছিলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু একবার ফোন দিয়েছেন সেহেতু নিশ্চয়ই এবার খালেদা জিয়া কলব্যাক করবেন। কিন্তু সেটাও হলো না। তবে আন্তরিকতার প্রশ্নে এ যাত্রায় এগিয়ে গেলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ফোন দিলেন খালেদা জিয়াকে। কি কথা হয়েছে আমরা জানি না। আবছা আবছা কথাবর্তা শুনেছি টিভি মিডিয়াতে।

২৮ তারিখ গভীর রাতেই একটি টিভি মিডিয়ার বদৌলতে প্রকাশ হয় দুই নেত্রীর ফোনালাপ। অবাক বিস্ময়ে শুনছে পুরো জাতি।

বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা নানান মতও প্রকাশ করছেন। সবাই দুই নেত্রীর ফোনালাপে বিরক্ত। যে সংলাপ সবাই আশা করেছে সেই কাঙ্খিত সংলাপ হবে স্বপ্নের মতো সুন্দর। তবে স্বপ্ন তো স্বপ্নই থেকে যায়। সংলাপ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়াবে সে বিষয়টিও হয়ে উঠেছে ঘোলাটে। আসলে যেখানে দুই নেত্রীর ফোনালাপই ঠিক মতো হয়নি সেখানে সামনা-সামনি ওনারা আসলে কি আলাপ করবেন সে বিষয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

Continue reading

এ জাগরণ থামবার নয়…

বাংলানিউজের স্বপ্নযাত্রা বিভাগে ২০১২ সালের ২১ মে চমক হাসানকে নিয়ে লেখা প্রকাশ হয়েছিল। চমকের গান ইউটিউবে শুনে মুগ্ধ হয়েই তার বিষয়ে আগ্রহী হই। পরে জানতে পারি  ইউটিউবে ‌‘গণিতের রঙ্গ’ নামে গণিতের উপর লেকচারও আপলোড করছেন চমক। সহজ ভাষায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় মজা করে অত্যন্ত ভালোবাসার সঙ্গে তুলে দিচ্ছেন গণিতের নানান দিক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিভাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাজারো জ্ঞানপিপাসু মানুষের মাঝে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলানাতে পিএইচডি করছেন।

তাকে প্রশ্ন করেছিলাম তরুণ প্রজন্ম নিয়ে। উত্তরে বলেন, আমি অনেক আশাবাদী মানুষ। তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশকে বদলে দেবে- এটা আমি বলি না। আমি বলি তারা বাংলাদেশকে বদলে দিচ্ছে!! এই প্রক্রিয়াটা আসলে শুরু হয়ে গেছে!

এছাড়াও রাজনীতি নিয়ে চমকের বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক সচেতনতা বেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল কারা এটা যেমন তরুণেরা জানে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া কতখানি জরুরী এটা যেমন তারা বোঝে, তারা এটাও জানে মুক্তিযুদ্ধ কোন একটা দলের একার সম্পত্তি না! Continue reading