পাহাড় আর নদীর বাঁকে তানবীরা তালুকদার

রেহানা সুলতানার ব্যস্ততা দিয়েই নারী দিবসের গল্পের শুরু। ‘নারীকেন্দ্র’ নামে একটি সংগঠনের দায়িত্বে আছেন তিনি। ৮ মার্চ বিশ্বের সব নারীবাদি সংগঠনের মত তারাও আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। যেখানে রেহানা সুলতানা মূল বক্তা।

এরপর রেহানা সুলতানার নানান ব্যস্ততার কথা উঠে আসবে গল্পে। এক পর্যায়ে তার ঘরের ভেতরও আমরা ঢুকে যাবো। যেখানে দেখবো তিনি শাশুড়ির সঙ্গে কেমন আচরণ করেন। এছাড়াও নিজের মেয়ের সঙ্গে অদৃশ্য দেয়ালের কথাও জানা যাবে।

একজন নারীর অন্য নারীর প্রতি নানান মনোভাবের প্রকাশও ঘটবে গল্পে। তবে গল্পের শেষে অন্য কিছু অপেক্ষা করছে। গল্পের শেষে তার ব্যক্তিগত ড্রাইভার জলিল তার মেয়ের আত্মহত্যার খবর নিয়ে হাজির হবে রেহানা কিংবা পাঠকের কাছে। আকুতি নিয়ে তার সমস্যার কথা বলবে। তার জন্য মায়া দেখাবে রেহানার মেয়ে টিয়ানা। এছাড়া আমরা কেউই জলিলের মেয়ের জন্য কাঁদবো না। জলিলের মেয়ে রফেজার মতো দিনে কত মেয়ে এ দেশে মরে ভুত হয়। কতো মেয়ে দিনে আত্মহত্যা করে। এতো মেয়ের জন্য মায়ায় জড়ানোর সময় কার আছে? আমাদের যেমন নেই তেমনি নেত্রী রেহানা সুলতানারও নেই। রেহানা যেমন টিয়ানাকে ধমক দিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সঙ্গে আমরাও মরে যাওয়ার গল্প একটি গল্প মনে করেই পরের গল্পে চলে যাই।

এ গল্পটির নাম ‘নারী দিবসের ব্যস্ততা’। এবছর একুশে বই মেলায় তানবীরা তালুকদারের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘পাহাড় আর নদীর গল্প’ প্রকাশিত হয়েছে জাগৃতি প্রকাশনী থেকে। প্রতিটি গল্পের প্রধান চরিত্র নারী। নারীদের ঘিরেই তানবীরার জগৎ। তিনি গল্পের ভেতর দিয়ে নারীদের মনে ঘোরাফেরা করেন। বোঝার চেষ্টা করেন নারীর মন। হয়ত তানবীরা নিজেকেই সেখানে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন।

ছোট ছোট গল্পের ভেতর এগিয়ে তিনি কখনও পৌছে যান নারীর শৈশবে, কখনও কৈশোরে, কখনও বা পরিণত বয়সে। প্রতিটি বয়সে নারীর মন বদলায়, বদলায় তার শরীরও। এ বদলের মাঝে নারীর ভাবনার জগতে ঘটে রঙের খেলা। যে খেলায় তানবীরাও অংশ নেয়।

একুশটি গল্প গ্রন্থিত হয়েছে ‘পাহাড় আর নদীর গল্প’ গ্রন্থে। প্রথম গল্প ‘না বলা গল্প’। মেয়েরা নাকি পুরুষের চোখের ভাষা বোঝে। তবে পুরুষের কখনও মেয়েদের চোখের ভাষা বোঝার ক্ষমতা হয় না। এ বক্তব্য অবশ্য আমার না। শোনা কথা। তবে এ কথা আমি বিশ্বাস করি বটে। Continue reading

নাগিব মাহফুজের সাক্ষাৎকার

নাগিব মাহফুজ (১১ ডিসেম্বর, ১৯১১-৩০ আগস্ট, ২০০৬) মিশরীয় লেখক। ১৯৮৮ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে ২০০৬-এর মার্চ মাসে তার এই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন আরেক মিশরীয় লেখক মোহামেদ সালমায়ি।
…………………………………………………..
সালমায়ি : যখন শুনলেন সাহিত্যে আপনি নোবেল পেয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?

নাগিব: আমি প্রচণ্ড আনন্দিত এবং অবাকও হয়েছিলাম। কখনও আশা করিনি যে আমি এই পুরস্কারটি পাবো। আমার লেখালেখির সময়টাতে অসাধারণ সব লেখকরা নোবেল পেয়েছিলেন। যেমন, অ্যানাতোল ফ্রাঁস, বার্নাড শ’, আরনেস্ট হ্যামিংওয়ে, উইলিয়াম ফকনার। আমি শুনেছিলাম যে আরবীয় লেখকরা হয়তো কোন একদিন নোবেল পেয়ে যাবে। কিন্তু সেটা যে আমি হবো, তা ভাবিনি। Continue reading

আপসের গল্পগুলো

শিপ্রার শহরে কয়েকজন এজেন্ট‘লাইফ ইজ ফুল অব কমপ্রোমাইজেস’। যে গল্পের শুরুতেই আপসের কথা চলে আসে, সে গল্পের লেখক যে জীবনকে আপস হিসেবেই দেখেন তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না।

শহুরে ক্লান্তি ও গ্লানিতে ভাসতে থাকা বন্ধুরা মাঝে মাঝে একত্রে আড্ডা দেয়। সে আড্ডায় আবুল বাশার বলা শুরু করে তার জীবনের কোনো এককালে ঘটে যাওয়া ঘটনা। যে ঘটনায় উঠে আসে ওপারের সঙ্গে এপারের মানুষের সম্পর্ক। যে সম্পর্কটাই অপরাধের। ভারতীয় বর্ডার ঘেষা গ্রামের মানুষের পেশাই স্মাগলিং। সভ্য বন্ধুদের সামনে নতুন পরিচয়ে নিজেকে পরিচয় করায় বাশার। সেখানেই হতাশার গল্প শেষ নয়। রানি নামে এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার গল্পও উঠে আসে। যে সম্পর্কে প্রেম কিংবা যৌনতার আকর্ষণ বুঝে ওঠার আগেই আসবে বিএসএফ। জীবন ও প্রেমের মাঝকানে প্রেমকে ত্যাগ করে বাশার পালিয়ে আসে সেই মেয়েটিকে একা ফেলে। হয়ত গল্পটি সেখানেই শেষ। কিংবা শুরুও হয়নি। বন্ধুদের আড্ডায় নীরবতায় বাশার কাঁদে। যেখানে একদিন সে কম্প্রমাইজ করেছিল। জীবনের সঙ্গে প্রেমের আপস হয়েছিল। যে আপসে আছে ব্যথা কিংবা বেদনা অথবা অপরাধবোধ। যা আজও বাশার বয়ে বেড়ায়। Continue reading