বিখ্যাত লেখকের “গল্পতুচ্ছ”

10428049_790722654336024_8505702358298027360_nঅনেকদিন ধরে ভাবছিলাম একজন বিখ্যাত লেখকের বই নিয়ে অালোচনা করবো। কিন্তু বিখ্যাত লেখক পাবো কোথায়? লেখক তো সব লেখকই রয়ে গেল, বিখ্যাত কেউ হতে পারলো না। অবশেষে এবছরের বইমেলায় একজন বিখ্যাত লেখকের সন্ধান পেয়ে গেলাম।

প্রিয় বন্ধুরা তিনি হলেন স্ব-ঘোষিত বিখ্যাত লেখক। এ প্রসঙ্গে অবশ্য বইয়ের শেষে লেখক পরিচিতির মধ্যে বলা অাছে- “নিজের ঢোল পেটানোর ব্যাপারেও তার অাগ্রহের কমতি নেই”। সম্প্রতি সময়ে সবাই নিজের ঢোল নিজেই পেটায়। সমস্যা হলো কেউ ইনিয়ে-বিনিয়ে পেটায় অার এই বিখ্যাত লেখক সরাসরি সাহসের সঙ্গে পেটান।

প্রিয় বন্ধুরা, অামি ‘অাশীফ এন্তাজ রবি’ রচিত একটি বই নিয়ে অালোচনা করবো। বইয়ের নাম “গল্পতুচ্ছ”।

অার শুনেন অামি অাবার পাতলা পাঠক না। অত্যন্ত জ্ঞানী পাঠক। অামার জ্ঞানের সমুদ্রে মাঝে মাঝে অামি নিজেই চাপা পড়ে যাই। তখন অনেক কষ্টে অামাকে টেনে উঠাতে হয়। যাইহোক, অামি অাশীফ এন্তাজ রবি রচিত ‘গল্পতুচ্ছ’ বইয়ের সব গল্পের অাগা গোড়া বলে দেব। এই রিভিউ পড়লে অাপনাদের বই কিনতে হবে না অামি নিশ্চিত। এই অফার ফ্রি। কারণ, তার বইয়ের ১০টা গল্প অার ৬৪ পাতা না পড়ে অামার লেখা থেকেই সব ইতিহাস জেনে নেবেন। তাহলে বোঝেন কত বড় ফ্রি অফার অামি দিচ্ছি?

কয়েকজন নিরপরাধী:
গল্পের সময় রাত ১১টা। তখন জামাল সাহেবের টয়লেট হচ্ছিল না। তাই তিনি কড়া দুই কাপ চা এবং একটি সিগারেট ধরিয়ে পাঁচতলা ফ্ল্যাটের বারান্দায় বসে টয়লেট অাসার অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ করে তিনি দেখলেন তাদের পাঁচতলা বাড়ির মেইন গেটের সামনে একগাদা পুলিশ দাঁড়িয়ে অাছে। এই দেখে জামাল সাহেবের টয়লেট পেয়ে গেল। তিনি দৌড় দিলেন টয়লেটে। ভয়ে তার পেট একদম ক্লিয়ার! পুলিশ তখন চিৎকার শুরু করলো। তারা বাড়িওয়ালাকে খোঁজা শুরু করে দিল। বলল গেটটা খুলে দিতে।

বাড়িওয়ালার নাম রশিদ উদ্দিন। তিনি ভাবলেন, পুলিশের ড্রেস পরে নিশ্চয় ডাকাতি করতে এসেছে। তিনি ভয়ে ভয়ে বারান্দা থেকে পুলিশের কাছে ওয়ারেন্ট দেখতে চাইলেন। পুলিশ দিল গালি। তাতেই তিনি ভয় পেলেন। গেলেন পাশের ফ্ল্যাটে। সেখানে কি হয়েছে বলব না। তবে বলে রাখি পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্র লোক বোরহান উদ্দিন অাহমেদ একজন উকিল।

রশিদ সাহেব এরপর গেলেন দোতলায় ইমাম হোসেন সাহেবের ঘরে। সেখানে তার বউকে জিজ্ঞেস করছেন, ইমাম ভাই নাই? এরপর স্ত্রীর উত্তরও বলবো না। কারণ অামি অপেক্ষা করছি একটা পরকীয়ার বিষয় অাপনাদের জানানোর জন্য। ফ্ল্যাটে একটা পরকীয়া প্রেম চলছিল। চারতলার গৃহকর্তা অাবদুল হালিম বাসায় নেই। তার স্ত্রী অাবিদা একা। অাবিদা পুলিশ এসেছে শুনে কান্নাকাটি মান-ইজ্জতের কথা চিন্তা করছিল।
সবাই বিচলিত পুলিশ এসেছে শুনে। পুলিশ কাকে অ্যারেস্ট করবে? সবাই যে সবাইকেই অপরাধী ভাবছে। এই সব অপরাধীরা তারপর তো মেইনগেটটা খুললই। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পর জানতে পারলো অাসলে তারা সবাই… (ডট ডট ডট).

  • লেখক: অাশীফ এন্তাজ রবি

  • বই: গল্পতুচ্ছ

  • প্রচ্ছদ: সব্যসাচী হাজরা

  • প্রকাশক: অাদর্শ

  • মূল্য: ১৫০ টাকা

মতিন স্যারের থার্ড পিরিয়ড:
মতিন স্যার একজন শিক্ষক। তিনি অাদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ধর্ম শিক্ষক। তাকে দেখেই ক্লাসের মেয়েরা ওড়না ঠিক করে। কেন ঠিক করে বোঝেন তো? এই সব কুলাঙ্গার টাইপ অনেক শিক্ষক তো অাশেপাশে কিলবিল করে। ক্লাসে মেয়ে ছাত্রী দেখলে নিজেরে ধরে রাখতে পারে না। ওই সব শিক্ষকের জন্যই মতিন স্যারের থার্ড পিরিয়ডের গল্প রচিত হয়েছে। অামি সবাইরে বলে দেই, অাপনার ক্লাসে যদি এই সব মতিন স্যার থাকে, তাদের অাশীফ এন্তাজ রবির এই গল্পের বই গিফট দিয়া অাসেন।

গোপন কথা:

“এভাবে একটা গোপন কথা নিয়ে তারা, দু’জন জেগে থাকে। সারারাত। গোপনে।”

গল্পের নায়ক শাহেদ। নায়িকা তার বউ তনিমা। মাত্র ৩ মাস হয়েছে তাদের বিয়ে হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক প্রেম হয়। ভালোবাসা হয়। অারও অনেক কিছুই হয়। জামাই বউয়ের মধ্যে যা হয় অার কি! অারে বুঝেন না? তাও শুনতে চান কেন? ওই যে মেয়েরা যখন বলে, “এই ছাড়ো ছাড়ো কেউ দেখে ফেলবে” তখন যা হয় অার কি। তেমনই ঘটে শাহেদ অার তনিমার মধ্যে। তনিমা কথা বলার সময় অনেক রহস্য করতে পছন্দ করে। রহস্য ছাড়া তনিমা কথা বলতে চায় না। অাবার শাহেদও তনিমার সব কথা শুনতে চায়। কিন্তু তনিমা অনেক সময় বলে না। বলতেও চায় না। তার নাকি লজ্জা লজ্জা লাগে।
তো এই সুখী দম্পতির জীবনে এক ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে তনিমা চায় শাহেদকে বলতে। কিন্তু শাহেদ অার সেটা শুনতে চায় না। শাহেদ যে চায় না সেটাও গোপন থাকে। তনিমা যে বলতে চায় সেটাও গোপন থাকে। এই গল্পের শেষ লাইন খুব ভালো লেগেছে।
“এভাবে একটা গোপন কথা নিয়ে তারা, দু’জন জেগে থাকে। সারারাত। গোপনে।”

বাজি:
এই গল্প শুরু হয় এটা চিঠি নিয়ে। সেটা চলে যায় জমির দলিলের দিকে। গল্পের প্রধান চরিত্র রোমেন। জমির ঝামেলা মেটাতে সে গ্রামের বাড়ি যায়। সেখানে পায় এক চিঠি। যে চিঠির বক্তব্য দুইটি ধারণা পেশ করে। একটি হলো মুক্তিযুদ্ধ অারেকটি হলো ২০০২ সালের যৌথ বাহিনীর অভিযান। এ নিয়ে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। নানানভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শুরু হয় চিঠি নিয়ে। শেষ পর্যন্ত বাজি হয় এই চিঠি ২০০২ সালের নাকি ১৯৭১ সালের। সেই বাজিতে কে জেতে জানা নাই।

ভবরোগ:
গল্পের নায়িকা ইভা এবং তার স্বামী জহির। এই গল্পে ইভা থাকে প্রতিবন্ধীদের স্কুলের শিক্ষক। অার জহির অনেকটা অামাদের মতই। নায়িকা দেখতে পছন্দ করে, চিৎকার করে কথা বলতে পছন্দ করে, টয়লেটে সময় বেশি কাটাতে পছন্দ করে। কিন্তু ইভা খুব অন্যরকম। অামরা যাকে বলি খুব ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। সে ক্যাচাল পছন্দ ক‌‌‌রে না। বাংলা সিনেমা পছন্দ করে না। হৈহল্লুড় পছন্দ করে না। তবুও তাদের সংসার অনেকদিন হয়ে গেছে। ইভার সঙ্গে জহির খুব সাবধানে থাকে। গল্পকথকের মতে জহির তার স্ত্রীর প্রেমে পড়েছে বিয়ের দুই বছর পর। মানে একদিন জহির তার স্কুলে যায়। গিয়ে দেখে প্রতিবন্ধী বাচ্চারা ইভাকে খুব জ্বালাচ্ছে, কিন্তু তবু ইভা কিছু বলছে না। সহ্য করছে। এমন অনেক ঘটনা দেখে ইভাকে সে ঘরে গিয়ে সব বলে। তুলনা করে।
তারপর অাবারও ক্লাইমেক্স। ওই ক্লাইমেক্স জানতে হলে গল্পটা পড়েন। ‘ভবরোগ’ গল্পটা মোটেও তুচ্ছ না। অনেক অসাধারণ গল্প। মনে হয়েছে প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন ভবরোগ অাসলে খারাপ হয় না। অামরা সবাই জহির হয়ে যাই।

শুরুতে বলেছিলাম ১০টা গল্প নিয়ে অালোচনা করবো। অাসলে মিথ্যা বলেছি। পাঁচটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন। সব গল্পের সব ফাঁস করলে প্রকাশক অাদর্শ অামার বারোটা বাজিয়ে দেবে অার লেখক তো গালাগালি করবেই।  মাত্র ১৫০ টাকায় ১০ টা গল্প যদি অাপনি না পড়তে পারেন তাহলে অাপনার জীবনই বৃথা। মনে করছেন বইয়ের দোকানে যাওয়ার সময় অাপনার নাই?

সেটার জন্যও সমাধান অাছে। অনলাইনের দোকান www.rokomari.com -এ যাবেন। কিংবা ক্লিক করুন http://rokomari.com/book/95565 – এই লিংকে। অর্ডার দিন। ঘরে বসে বই পড়ুন দেখবেন সময় ভালো কাটছে।