নির্বাচনকালীন সংকট: সমাধান কোথায়?

EC_1জাতীয় সংসদ নির্বাচন বলতে আসলে কি বোঝায়? এমন প্রশ্ন প্রায়ই আমার মনে উদয় হয়। নির্বাচনের রূপ আমার কাছে অনেকটাই আতংকের মতো শোনায়। উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন সভা ও এটি এক কক্ষ বিশিষ্ঠ। এ আইন সভার জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করা হয়।

এছাড়াও ৫০ জন মহিলা সংসদ সদস্য সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরূপে মনোনীত হন। নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রীই হলেন সরকার প্রধান। রাষ্ট্রের প্রধান হলেন একজন রাষ্ট্রপতি যিনি জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদ হলো আনুষ্ঠানিকতা, প্রকৃতপক্ষে সকল ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে সরকার প্রধানের হাতে।

আপাতত ক্ষমতার এ সংজ্ঞাটিকেই মেনে নেই। একটু নজর দেই আমাদের নির্বাচনগুলোর দিকে। বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এদেশের গণতন্ত্র যাত্রা শুরু করে ১৯৯১ সালের নির্বাচন দিয়ে। ছক দিয়েই এখন পর্যন্ত সবগুলো নির্বাচনের অবস্থাটি দেখি। ছক-১

Untitle

ছক-১-এর দিকে লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, প্রতিটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে ভোটার সংখ্যাও। এ বিষয়ে একটি প্রাসঙ্গিক গবেষণা চিত্রও তুলে ধরা যাক। গবেষণাটি করেছেন জাপানের ইনস্টিটিউট অব পলিসি সাইন্সের গবেষক ড. মঞ্জুরে খোদা টরিক। তার গবেষণা নিয়ে একটি প্রবন্ধ ২০১৪ সালের ৩ জানুয়ারি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজে “তত্ত্বাবধায়ক না সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন কোনটা জরুরী” শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

তার প্রবন্ধে গত ৪ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখান যে, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল প্রদত্ত ভোটের ৩০.৮% , আর আসন পেয়েছিল ১৪০টি। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩০.১% ভোট, আর আসন পেয়েছিল ৮৮টি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩৭.৪% ভোট, আর আসন সংখ্যা ছিল ১৪৬টি। বিএনপি পেয়েছিল ৩৩.৬% ভোট, আর আসন সংখ্যা ছিল ১১৬টি।
২০০১ সালে বিএনপি পেয়েছিল ৪০.৪১% ভোট এবং আসন সংখ্যা ছিল ১৯৩টি। আর আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪০.০২% ভোট এবং আসন সংখ্যা ছিল ৬২টি।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪৯.০% ভোট আর আসন সংখ্যা ছিল ২৩০টি এবং বিএনপি পেয়েছিল ৩৩.২% ভোট, আর আসন সংখ্যা ছিল ৩০টি।

ড. টরিকের গবেষণায় ৪টি জাতীয় নির্বাচনের আওয়ামী লীগ-বিএনপি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ভোটসংখ্যা, হার ও প্রাপ্ত আসন এবং প্রধান দুই দলের ভোটের শতকরা ব্যবধানের হার তুলে ধরেন। সেই ছকটিই তুলে ধরা হলো:-

ছক:-২

Untitled

 

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ:
উল্লেখিত পরিসংখ্যানগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশে দুই রাজনৈতিক দল কেন্দ্রিক নির্বাচন শুরু হয়েছে অর্থাৎ দুটি রাজনৈতিক দলই দেশের সকল প্রকার নির্বাচনের মূলে থাকে এবং বাকী দলগুলোর জন্য এককভাবে নির্বাচন করে সরকার গঠন করা অনেক কঠিন। একই সঙ্গে ভোটের হারে দুটি দলই কাছাকাছি ব্যবধানে থাকেন। এদেশের জনগণ বারবার গণতন্ত্রের চাবি তাদের হাতেই তুলে দিচ্ছেন আস্থার সঙ্গে। এখন প্রশ্ন হলো, এ আস্থার মূল্য তারা কিভাবে দিয়েছেন?

নির্বাচনকালীন অবস্থা:
১৯৯১ সালের বিএনপি ক্ষমতার আসনে বসেন।ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে থেকেই আওয়ামী লীগ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। প্রধানবিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালের জুন মাস থেকে আন্দোলন ধীরে ধীরে গড়ে তোলে আওয়ামী লীগ। তৎকালীন পত্রিকায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালের জুন মাস থেকে ১৯৯৬ সালের জুন পর্যন্ত এ আন্দোলনে দুই দলের সহিংসতায় তাদের নিজস্ব কর্মীই আহত হয়েছে প্রায় ৯ হাজার। বিভিন্ন সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৮০ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ।

এসময়ও তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয়টি চলে আসে। দুই নেত্রীর আলোচনার টেবিলে বসার আমন্ত্রণ জানান অনেকেই। সে সময়টিতেও কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
১৯৯৫ সালের পত্রিকার কয়েটি চিত্র তুলে ধরা যাক:-

SAM_3971

ছবি-০১

 

 

 

ছবি-১  ১৯৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠ থেকে নেয়া। সেদিন বিরোধী দলীয় নেত্রী একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রধামন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন দেন। সেদিনও আলোচনার প্রস্তাব ভেস্তে গেছে। শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য আলোচনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সে ডাকে সাড়া দেননি। তিনি সাফ বলে দিয়েছিলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে তিনি কিছু করতে পারবেন না।

 

 

 

সেসময় বেগম খালেদা জিয়া কোনোভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি মানবে না বলে সাফ বলে দেন। এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ভাষণেও উল্লেখ করেন। ১৯৯৫ সালের ১৭ নভেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠের সংবাদে দেখা যায়, খালেদা জিয়া সংসদীয় দলের সভায় দলের এমপিদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। সঙ্গে কেউ না এলে একাই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বসেন।

SAM_3963

ছবি-০২

তার আগেই অবশ্য চট্টগ্রামের এক সুধী সমাবেশে খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বলেছেন। যা বর্তমান সময়ে ২০১৩ সালেও আমরা বলতে শুনেছি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রীর। যিনি তখন বিরোধী দলে ছিলেন।

SAM_3944 নভেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠ থেকে পাওয়া সংবাদে দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতে পারে না। কারণ তা সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ ব্যক্তি বলতে কারও হাতে ক্ষমতা দেয়া যাবে না। কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কোন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না।

 

 

 

 

এধরনের সংবাদগুলো থেকে অনেকগুলো প্রশ্ন তৈরি হয়। সেসময় বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রীর পদে বসে যেসব কথা বলেছেন, সেগুলো কেন এখন তিনি শুনতে পারছেন না কিংবা মানতে পারছেন না? তিনি যেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন তাহলে কেন এখন ২০১৪ সালের নির্বাচনে এগিয়ে আসলেন না?

দ্বিতীয় প্রশ্ন একইভাবে, বর্তমান প্রধামন্ত্রীর দিকে। সেসময় এসব বক্তব্যের প্রতি তিনি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। হাজার হাজার নেতার কর্মীর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে তিনি ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি আদায় করেছেন। তবে বর্তমান সময়ে কেন সেই একই দাবি সংবিধানের দোহাই দিয়ে একাই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গেলেন?
এমন সব অনেক প্রশ্ন নিয়ে নিশ্চয় বাংলাদেশের জনগণ বসে আছেন। এদেশের জনগন এই দুই নেত্রীকে বারবার প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাদের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মুদ্রার এপি-ওপিঠের মতই তারা আচরণ করছেন।

অন্যান্য নির্বাচনকালীন অবস্থাও উল্লেখ করলে খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না। একমাত্র ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সুন্দর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কিন্তু বিএনপি আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রাজনৈতিক খেলা শুরু করেন ২০০৭ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিজেদের পছন্দমত বসাতে গিয়ে বিচারপতিদের চাকরির বয়সের মেয়াদ বাড়ান। নানান ভোট কারসাজি তারা সাজাতে থাকেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ আবারও তীব্র আন্দোলনের মুখে বিএনপি অনেকটাই বিপাকে পড়ে। অন্যরকম অস্থিতিশীল পরিবেশে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে দেশে তৈরি হয় অন্যরকম এক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে।

পর্যবেক্ষণ:
প্রতিটি নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় একমাত্র ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো রাজনৈতিক সহিংসতায় দুটি দল জড়ায়নি। কিন্তু ১৯৯৬, ২০০৭ এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন সময়ে মারাত্মকভাবে সহিংসতায় জড়াচ্ছে দুই দলই।

প্রতিবার আলোচনার কথা বলা হচ্ছে। আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো আলোচনার কোনো সুফল জাতি দেখেনি। ১৯৯৫ সালের সব আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল। ২০০৬ সালের দুই দলের উপর তলার দুই নেতা সংলাপে বসেছিলেন কিন্তু কোনো সমাধান তারা খুঁজে পাননি। একইভাবে ২০১৩ সালে একাধিক উদ্যোগে সংলাপ, সমঝতা কিংবা আলোচনা হলেও সমাধান পায়নি দুই দল।

নির্বাচন ২০১৪:-
নির্বাচনকালীন সময়ে সহিংসতার মাত্রা এবছর অন্যসব বছরের চেয়ে এগিয়ে গেছে।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে মোট ৮৪৮ টি সংঘাতের ঘটনায় মারা গেছেন ৫০৭ জন। আহত হয়েছেন ২২ হাজার ৪০৭ জন।

রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে এবার যোগ হয়েছে আগুনে পুড়িয়ে মারা। যা এর আগের সবগুলো নির্বাচনকালীন সময়ের সহিংসতায় খুব একটা দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ৯৪ জন আগুনে পুড়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন।এর মধ্যে ২১ জন মারা গেছেন।

বিএনপির ভুল রাজনীতি:-
বারবার ভুল রাজনৈতিক স্ট্র্যাটিজির প্রমাণ দিচ্ছে বিএনপি। প্রথমত, দেশবাসী চায় বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করবে। ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতের কিছু ভোট থাকলেও যুদ্ধাপরাধী এবং জঙ্গীবাদীর অভিযোগে এদলটিকে যে কোনো মূল্যে বিএনপিকে ত্যাগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপি কেন জামায়াতের কারণে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে জোট করে থাকবেন? জামায়াতকে ত্যাগ করাই হবে বিএনপি সর্বপ্রথম সঠিক সিদ্ধান্ত।

দ্বিতীয়ত হলো, রাজনৈতিক বিভিন্ন বক্তব্য দেয়ার সময় জনগণের পাল্স বুঝতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে। সর্বশেষ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ইউটিউবে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ধরে নিতে হবে, এটি ছিল বিএনপির সবশেষ ট্রামকার্ড।

যত অভিযোগ তারেক রহমানের উপর থাকুক,বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীরা তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। তার বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল উৎসাহমূলক।

তার বক্তব্য সেই সেঁকেলে রাজনৈতিক বাক্যে ভরা। বিএনপি-আওয়ামী লীগ উভয় দলকেই মাথায় রাখতে হবে, বর্তমানে দেশের মানুষ রাজনৈতিক সচেতন। তারা রাজনৈতির কোনো নোংরা খেলা বোঝে। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছুই করা যায় না।

তারেক রহমানের বক্তব্য ছিল সেই পুরনো রাজনৈতিক স্ট্যান্ড। কিন্তু সেখানে থাকা উচিত ছিল নিজেদের স্ট্র্যাটিজিক প্ল্যান। সরকারের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে তিনি তার দলের স্ট্যান্ডটাই তুলে ধরতে পারেননি। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রতিহত করতে। কিন্তু কিভাবে? নির্বাচন তো সরকার করছেই। সরকার তো গঠন হবেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুতরাং, তারপর বিএনপি কি করবে? বিএনপি কিভাবে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে। প্রক্রিয়াটি কেমন হবে? আলোচনার কোনো উদ্যোগ বিএনপি কি নেবে? কিংবা আলোচনা হলে সেখানে বিএনপির প্রস্তাব কি থাকবে? কিংবা অতীতে যা আলোচনা হয়েছিল সেখানে বিএনপি কি প্রস্তাব দিয়েছিল? সরকার কি যুক্তি দেখিয়ে তা মানেনি?

এমন কোনো প্রশ্নের উত্তরই তিনি দেননি। তিনি তার বক্তব্যে সেই ক্ষোভ, হতাশার রাজনীতির কথাই বলেছেন। সেখানে মানুষ কোনো শান্তির সিগনাল পায়নি। বিএনপির বিরুদ্ধে যা অভিযোগ সেগুলোরও কোনো জবাব তিনি দেননি। বিএনপির হরতাল অবরোধ ঘিরে ২১ জন মানুষ জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ বিষয়ে তিনি একবিন্দুই দুঃখ প্রকাশ করেননি। কিংবা আন্দোলন মানে মানুষ পুড়িয়ে মারায় বিএনপি বিশ্বাসী না, এমন বক্তব্যও দেননি।

সুতরাং ভুল রাজনৈতিক স্ট্যান্ডই বিএনপিকে বারবার পরাজিত করছে।

এদেশের প্রতিটি মানুষকেই মনে রাখতে হবে। দেশের উন্নতির জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। বিরোধী দলই একমাত্র গোষ্ঠী যারা সরকারকে চাপে রাখতে পারেন। তবে সরকারকে চাপের মুখে ফেলতে গিয়ে সহিংসতা চালানো হবে, এটা কখনও মেনে নেয়া যায় না।

সমাধান কোথায়?
নির্বাচনকালীন এ সহিংসতা বন্ধে সমাধান কোথায়? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর কারও জানা নেই। দুই দলের ক্ষমতার পালাবদলের উপর নির্ভর করে দেশ। এ সহিংসতা বন্ধে কোনো পথ দেশবাসীর চোখে পড়েনি। তাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ, হতাশা ইগোর মধ্যে আটকে গেছে দেশ।

অন্যদিকে বিএনপিকে কব্জা করে নিয়েছে জামায়াত। বলা হচ্ছে, তাদের ইশারাতেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না। এটিও স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধীর ইস্যুতে বিএনপির স্ট্যান্ড সহজভাবে নিচ্ছে না কেউ। এজন্য আপাতত সামাধান বিএনপি খুব শিগগিরই ত্যাগ করবে জামায়তকে। তবে হয়ত ধীরে ধীরে খুলতে পারে সমাধানের পথ।