সংগীত দিবস চাই: দূরে

সংগীত ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। বহুদিন থেকে সহকর্মী বড় ভাই সঞ্জয়দা সংগীতের একজন মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বারবারই বলছিলেন। সঞ্জয়দা’র মতে, সেই মানুষটির হাত ধরেই তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সামনের সারিতে এসেছেন। সংগীতের জন্য তিনি উৎসর্গ করছেন জীবনের প্রতিটি সময়। মানুষটির নাম ঈশা খান দূরে।

ঈশা খান দূরে একুশে টেলিভিশন ভবনে বসেন। কি তার কাজ? এমন প্রশ্ন আমার মনে বারবারই আসে। সঞ্জয় দা বলছিলেন, সেখানে তিনি গানের ল্যাব বানিয়েছেন।

গানেরও ল্যাব হয়? সত্যিই অবাক হচ্ছিলাম। কাওরানবাজারে একুশে টিভি ভবনের লিফট দিয়ে উপরে উঠছি আর ভাবছি, আমরা সব সময়ই গায়কদের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হই। কিন্তু যারা এমন গায়ককে মঞ্চে সুযোগ করে দেন, তাদের কথা খুব একটা ভেবে দেখি না। ঈশা খান দূরে তেমনই একজন মানুষ। একুশে মিউজিক ল্যাবে তিনি এক ঝাঁক তরুণকে নিয়ে সংগীতের জন্য কাজ করে চলেছেন।

তার সঙ্গে আড্ডার কথাগুলো একটু পরে বলছি। শুরুতেই বলি, কে এই ঈশা খান দূরে? ঈশা খান দূরে আশির দশকের মাঝামাঝি বাংলা ব্যান্ডসংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া শুরু করেন। নব্বইয়ের দিকে ‘ওয়ারফেজ’ নতুন ব্যান্ডদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় তাদের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে পড়েন দূরে। অনুভব করেন ব্যান্ডসংগীতে এগুতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গানের প্রতি তারও তীব্র প্রেম গড়ে ওঠে মনে মনে। সে সময় তিনি তরুণ ব্যান্ডদল  সদস্যদের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন।

বর্তমানে দূরে একুশে মিউজিক ল্যাবে তরুণদের নিয়ে কাজ করছেন।

এবার আড্ডায় ফিরে আসি। একুশে মিউজিক ল্যাবে দূরের ছিমছাম কক্ষে গিয়ে আমরা বসি। চা খেতে খেতে খুব সাধারণভাবে দূরে আমাকে প্রশ্ন করেন, বলেন কী বলবেন? আমি তখন ছোট্ট কক্ষের দেয়ালে লাগানো পোস্টারগুলো দেখছি। চারপাশে বিখ্যাত সব গায়কদের ছবি। ছোট্ট কক্ষে যেন গানের ইতিহাস নিয়ে বসে আছেন মানুষটা। আমি ওত ইতিহাস জানি না। তাও দেখছি। দেখে মনে হলো, বিশাল এ জগতটা আমার কাছে বোধহয় চিরদিনই অজানা থেকে যাবে। পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টির কত কিছুই মানুষই জানার সুযোগ পায় না। ছোট্ট এ জীবনে কত আর জানা যাবে? হীরক রাজার দেশে ছবিতে একটা ডায়লগ আছে। ‘জানার কোনো শেষ নাই। জানার চেষ্টা বৃথা তাই।’ তাও যে জানতে ইচ্ছে করে। সময় সুযোগ হলে এমনসব মানুষের পাশে বসে রাজ্যের বিষয় নিয়ে জানার বৃথা চেষ্টাটাই মানুষ মৃত্যু পর্যন্তই করে যায়। এজন্য মানুষ বোধহয় মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছে। যাইহোক,

আড্ডার শুরুটা প্রশ্ন দিয়েই শুরু করলাম। মেইন স্ট্রিমে ঠিক কিভাবে কাজের সুযোগ পেলেন?

দূরে: (চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেন। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে শুরু করেন) মবিন ভাইকে চেনেন?

শেরিফ: সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ইমরান আহমেদ চৌধুরী মবিন? যিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান?

দূরে: হ্যাঁ। মবিন ভাইয়ের জন্যই অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তাই সুযোগের অভাব হয়নি। মবিন ভাইয়ের সঙ্গে নব্বইয়ের মাঝামাঝি সময়ে পরিচয় হয়। বাংলাদেশে তিনি ছিলেন নামকরা সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। তখন সাউন্ড বিষয়ের কলাকৌশল শেখার জন্য মবিন ভাইয়ের কাছে যাই। মবিন ভাই একবাক্যে রাজি হয়ে যান। এরপর বিভিন্ন কনসার্টে মবিন ভাইয়ের সঙ্গে যেতে থাকি।

একদিন হঠাৎ করে মবিন ভাই এসে বললেন, তুমি সাউন্ড গার্ডেনে আমার সঙ্গে কাজ করবে? সাউন্ড গার্ডেন তখন সবচেয়ে পুরোনো এবং জনপ্রিয় স্টুডিও। আমি রাজি হয়ে যাই। এবং কাজ শুরু করি সহকারী সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

সঞ্জয়: কিন্তু আপনি কেন তরুণদের নিয়ে কাজ করার তাগিদ অনুভব করেন? মবিন ভাইয়ের সঙ্গে থেকে আপনি তো বড় তারকা শিল্পীদের সাথেই কাজ করতে পারতেন?

প্রশ্নটি শুনেই ঈশা খান দূরে হেসে দেন।

দূরে: আমি যখন সাউন্ড গার্ডেনে কাজ করি তখন এলআরবি, মাইলস্, রেনেসাঁর মতো বড় মাপের ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছি। একই সময়ে কয়েকটি নতুন ব্যান্ডদলের সঙ্গেও আমার পরিচয় হয়। যেমন, ক্রিপটিক ফেইথ, মেটাল মেজ ইত্যাদি। আমি তাদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। ঘুরতে যেতাম। তাদের বিভিন্ন শো’গুলোতেও যেতাম।

তখনই অনুভব করলাম, এ তরুণগুলোর মাঝে প্রতিভা আছে। গানের প্রতি তীব্র ভালোবাসা আছে। তারাও ভালো করার মত যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু সুযোগের অভাবে সামনের সারিতে আসতে পারছেন না।

শেরিফ: তরুণদের নিয়ে কাজ করাটা খুব কঠিন। বিশেষ করে তরুণ লেখক, তরুণ গায়কদের সহযোগিতা করতে অনেকেই ভয় পান। আপনি ভয় পেলেন না?

দূরে: ভয় পাবো কেন? বরং আমি জি-সিরিজের খালিদ ভাইকে বলি, তরুণদের নিয়ে কাজ করার কথা। তিনি আমার আইডিয়ার প্রশংসা করেন। এরপর দু’জনে মিলে কাজ শুরু করি। ২০০০ সালে একঝাঁক তরুণকে নিয়ে প্রথম অ্যালবাম ‘ছাড়পত্র’ বের করি। সে সময় আর্টসেলের মত ব্যান্ড জনপ্রিয় হয়ে যায়। ক্রিপটিক ফেইথের ‘চলো বাংলাদেশ’ গানটিও জনপ্রিয় হয়ে যায়। এমনটাই আমরা চাচ্ছিলাম। তরুণরাও সুযোগ পেলে যে ভালো করতে পারেন, সে বিশ্বাস তখন অন্য সবার মধ্যেও গড়ে উঠতে থাকে।

সঞ্জয়: শুধুমাত্র ব্যান্ডদল প্রমোট করা নয়; তরুণ গায়কদেরও কেউ প্রমোট করতে চান না।

দূরে: সত্যি কথা কি জানেন? আমার সব কিছু আমার ছেলের জন্য। ওর জন্যই অনুপ্রেরণা পাই। আমার ছেলের জন্যই আমি নতুন প্রজন্মের জন্য কিছু কাজ করে যেতে চাই। প্রতিটি পথ যখন অতিক্রম করি তখন মনে হয়, এখন যে সমস্যার সমাধান আমি করে দিলাম। সামনে আমার ছেলেকে এ সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না।

সঞ্জয়: তবে তরুণদের নিয়ে কাজ করাটা অত্যন্ত প্রশংসার। কারণ, মিউজিক একজন মানুষের মনকে প্রশান্তি দেয়। গানের লাইনগুলো একজন মানুষকে ভাবতে শেখায়। তাই সংগীতের সঙ্গে তরুণদের সম্পর্ক হওয়াটা ভালো। তাছাড়া সংগীতের সঙ্গে থেকে তরুণরা মাদকাসক্ত হওয়া থেকেও বিরত হতে পারেন।

শেরিফ: যেহেতু সঞ্জয় দা গানের লাইনের প্রসঙ্গ তুললেন। তাই আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই। আগে এলআরবি, মাইলস, সোলস যে ধরনের ছন্দে গান গাইতো, তা মানুষ আজও মনে রাখছে। কিন্তু বর্তমানে তরুণ ব্যান্ডগুলো যে ধরনের গান গায়, তাদের ছন্দ মনে রাখার মতো হচ্ছে না। যদিও ব্যান্ডগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেক গানও সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু গানের ছন্দ কিংবা বাক্যে দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে।

দূরে: গানের বাক্য কিংবা ছন্দ নির্ভর করবে জীবনধারার উপর। আগে জীবনধারা ছিল এক ধরনের। এখন তা বদলে গেছে। বর্তমান সময়ের গান তাই একটু বদলাবেই। প্রযুক্তি যেমন আমাদের দেশকে প্রতিদিন বদলে দিচ্ছে, ঠিক তেমনি আমাদের ভাবনার জগতকেও পাল্টে দিচ্ছে।

সঞ্জয়: এর সঙ্গে আমি আরেকটি পয়েন্ট যুক্ত করতে চাই। সেটা হলো, আগে শ্রোতা কম ছিল। শিল্পীও কম ছিল। কিন্তু এখন শ্রোতাও বেড়েছে। শিল্পীও বেড়েছে। আগে আমি এলআরবির গান শুনতাম। কারণ, এছাড়া অপশন ছিল না। কিন্তু এখন আমি এলআরবির গানও শুনি, আবার আর্টসেলের গানও শুনি। অন্যদিকে ইন্টারনেট আমাদের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। চাইলেই ইউটিউবে গিয়ে বিশ্বখ্যাত গায়কদের গান দেখতে ও শুনতে পারছি। তাই আমাদের গ্রহণের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। যা আগে ছিল না।

শেরিফ: বাংলাদেশে কি এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকমানের কনসার্ট হয়?

দূরে: না হয়নি। তবে হবে। একদিন অবশ্যই হবে। দেশি-বিদেশি ব্যান্ডদল আসবে। এক মঞ্চে নতুন-পুরনোরা গান গাইবেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি বিশাল একটি আয়োজন হবে। তাছাড়া মিউজিক নিয়ে আমাদের দেশ কোন জায়গায় আছে, সেটাও বোঝা যাবে।

শেরিফ: পার্থক্যের বিষয় যখন এসেই পড়লো। তাহলে প্রশ্ন করি, আমাদের দেশের মিউজিক অন্য দেশের তুলনায় কতটুকু এগিয়ে আছে কিংবা পিছিয়ে আছে।

দূরে: আমি তো মনে করি, অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়েও আমাদের মিউজিক অনেক এগিয়ে আছে। এ দেশে কোনো মিউজিক ইউনিভার্সিটি নেই। চর্চা করার জন্য জায়গা নেই। আপনি যদি ড্রামার হন, তবে আপনি কী পারবেন নিজের বাসায় ড্রাম নিয়ে চর্চা করতে? আওয়াজে তো নিজের ঘর থেকেই আপনাকে বের করে দেবে। সারাদিন ভয় নিয়েই চর্চা করতে হয়। বাইরের প্র্যাকটিস প্যাডে যেতে হয় পয়সা দিয়ে। এই তরুণেরা নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে অনুশীলন করেন।

সঞ্জয়: এদেশের ছেলেরা নিজের পকেটের পয়সা খরচ করেই গানের অনুশীলন করেন, এটা ঠিক। এদেশে গান নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। শুধু গান দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়া যায় না। আমরা তো চাকরির ফাঁকে গানের অনুশীলন করি। সপ্তাহে একদিন ছুটির দিনে সবাই একসঙ্গে হয়ে গানের চর্চা করি।

দূরে: তাহলে ভেবে দেখেন। যদি সারাদিন গান নিয়ে কাজের সুযোগ থাকতো। শুধু গান নিয়ে কাজ করে মাস শেষে কিছু পয়সা আসতো। তাহলে গানকে আমরা কোথায় নিয়ে যেতে পারতাম? এদেশে সরকারই তো কোনো ভূমিকা নেয় না। আমার মাঝে মাঝে সরকারকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, আপনারা কি গান শোনেন না? ক্লান্ত হয়ে যখন ঘরে ফেরেন, তখন আমরাই তো আপনার ক্লান্তি দূর করে দেই। তখন কি ইচ্ছে হয় না আমাদের জন্য কিছু করতে?

শেরিফ: তবে মিউজিক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত। খুব প্রয়োজন আমাদের দেশে।

দূরে: অবশ্যই প্রয়োজন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ, এদেশে কয়জন মানুষ সংগীত কিংবা শব্দ নিয়ে পড়াশোনা করেছে? আমরা তো কাজ করতে করতে শিখেছি। আমি মবিন ভাইয়ের সঙ্গে ১২ বছর কাজ করেছি। তাই শিখতে পেরেছি। কিন্তু কাজ জানলেই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যায় না। তাই শুরুতেই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই সম্ভব।

সঞ্জয়: বিশ্ববিদ্যালয় তো পরের কথা। আমাদের তো গান গাওয়ার জন্যও জায়গা নেই।

দূরে: এ বিষয়ে তো আমি বহুবার অনেককেই বলেছি। আমাদের দেশে ক্রিকেট খেলার স্টেডিয়াম আছে, ফুটবল খেলার স্টেডিয়াম আছে। এমনকি রাজনৈতিক জনসভার জন্যও ময়দান আছে। শুধু নেই কনসার্টের জায়গা। কনসার্ট করার মতো একটি জায়গাও নির্দিষ্ট নেই।

শুধু গানের জন্যই একটি মাঠ আপনি আমাকে দেখাতে পারবেন? এদেশের গান নিয়ে কেউ ভাবে না। অথচ গান দিয়ে একদিন আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের যোদ্ধাদের আমরাই উদ্বুদ্ধ করেছি। কিন্তু সবকিছুর মাঝে আমরাই অবহেলিত রয়ে গেলাম।

শেরিফ: আপনার এ দাবি কি শুধুমাত্র ব্যান্ডসংগীতের জন্য?

দূরে: না তা কেন হবে? আমি সব সংগীতের কথা বলছি। ব্যান্ড তো সংগীতেরই একটা অংশ। আমাদের ঐতিহ্য তো ভাওয়াইয়া, বাউল সংগীত। সব গানের কথাই আমি বলছি।

শেরিফ: নির্দিষ্ট কোনো জায়গার কথা আসলেই যৌক্তিক। আমি এভাবে ভেবে দেখিনি। তবে এর উদ্যোগ কে নেবে?

দূরে: আপনি নেবেন। আমি নেবো। তরুণরা যেমন এদেশের গানের গতি এবং ধরন পাল্টে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি একদিন তরুণরাই একদিন আমাদের এসব দাবি আদায় করবেন। কিন্তু এসব কিছুর জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ তো দরকার।

শেরিফ: এক্ষেত্রে আপনার উদ্যোগ একুশে মিউজিক ল্যাব কি কোনো ভূমিকা রাখবে?

দূরে: হ্যাঁ রাখবে। আমরা তো এ ল্যাবে তরুণদের প্রমোশন করার জন্যই কাজ করছি। তাদের পূর্ণাঙ্গ সুযোগের জন্য যা যা দরকার, তার সবকিছুই আমরা এ ল্যাব থেকে দেওয়ার চেষ্টা করতে চাই।

সঞ্জয়: তবে গান নিয়ে তো অনেকেই তরুণদের নিয়ে কাজ করছেন। এ উদ্যোগগুলোকে একসঙ্গে করলে অবশ্যই আমাদের দেশের মিউজিকে পরিবর্তন আসবে।

দূরে: অবশ্যই আসবে। এজন্যই আমি সবাইকে একত্র করার কাজে হাত দিয়েছি। নবীন-প্রবীণ ৫৫টি ব্যান্ড নিয়ে ‘হাতিয়ার’ নামে একটি অ্যালবামের কাজে আমি হাত দিয়েছি। মৌলিক গান নিয়ে এক মোড়কে এতো গান প্রকাশের ঘটনা বিশ্বে  এটিই প্রথম।

সঞ্জয়: আমি শুনেছি, আপনি ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে ৩০৫টি ব্যান্ডের গান পেয়েছেন।

দূরে: হ্যাঁ। সেই ৩০৫টি গান থেকে ৩৩টি ব্যান্ডের গান থাকবে এ অ্যালবামে। বাকি ২২টি ব্যান্ড পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত।

সঞ্জয়: মোট ৫৫টি ব্যান্ডের গান নিয়ে যদি প্রথম অ্যালবাম হয়, তবে তো গিনেজ বুকে নাম ওঠারও সম্ভাবনা আছে।

দূরে: তা আছে। আমিও চেষ্টা করবো।

শেরিফ: বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে আপনি সুন্দর ভবিষ্যত দেখতে পান। আপনার কাজের মধ্যেই প্রকাশ পায়। এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

দূরে: তরুণরাই তো এদেশের ভরসা। তাদের  ছাড়া এক বিন্দুও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। অনেক ভালো হতো, যদি ওদের আরো বেশি সুযোগ করে দেওয়া যেতো। তবে আমি সরকারের কাছে আপনার মাধ্যমে আবেদন জানাতে চাই, সেটা হলো বছরে একটি দিন সংগীতের জন্য উৎসর্গ করে দিন। একটি দিন সবাই গান শুনবে; গান গাবে। আমাদের পৃথিবীতে এতো দিবস আছে। শুধুমাত্র সংগীতের জন্য কোনো দিবস নেই।