পৃথিবীর একমাত্র সত্যি শহর ঢাকা: শংকর

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক শংকর ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর  ঢাকায় এসেছিলেন  ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) আমন্ত্রণে। সেবারই প্রথম বাংলাদেশে  শংকর। পুরো নাম মণিশংকর মুখার্জি হলেও কয়েক প্রজন্মের বাঙালি পাঠকের কাছে তিনি প্রিয় লেখক শংকর নামে পরিচিত। ১৯৩৩ সালে যশোরের বনগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আইনজীবী বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় ভাগ্যসন্ধানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগেই হাওড়ায় চলে আসেন। সেখানেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং সাহিত্যসাধনার শুরু। জীবনের শুরুতে টাইপিস্ট, ক্লার্কসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন। শংকরের বিখ্যাত উপন্যাস ‘চৌরঙ্গী’ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত সিনেমা। সত্যজিৎ রায় তারই কাহিনী অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন ‘জনঅরণ্য’ ও ‘সীমাবদ্ধ’র মতো চলচ্চিত্র। ইংরেজি ভাষায় তার বিখ্যাত বইগুলো অনুবাদ হতে শুরু করেছে সম্প্রতি।

২০ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইইউবির স্থায়ী ক্যাম্পাসে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর শংকরের সঙ্গে কথা বলি আমরা তিনজন। মাহবুব ভাই,  বন্ধু একরামুল হক শামীম এবং আমি। সাক্ষাৎকারটি সমকালে প্রকাশিত হয়েছিল।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহবুব মোর্শেদ, একরামুল হক শামীম ও শেরিফ আল সায়ার

এবারই প্রথম বাংলাদেশে এলেন?

শংকর : বাংলাদেশে এর আগে কখনও সাহিত্যিক হিসেবে আসিনি। পাঠকের সঙ্গে মিলতে এই প্রথম আমার বাংলাদেশে আসা।

আপনার জন্ম তো বাংলাদেশের যশোরে?

শংকর : না। বাংলাদেশে না। বনগ্রামে। বনগ্রাম তখন যশোরে ছিল। পরে পার্টিশনের সময় বনগাঁ আলাদা হয়ে গেছে।

তার মানে দেশভাগের পর এবারই লেখক হিসেবে প্রথম এলেন?

শংকর : দেশভাগের আগেও আসিনি।

কেন বাংলাদেশে এলেন না?

শংকর : যখন হিসাব করলাম তখন দেখলাম যে কলকাতার বাইরে বাঙালি পাঠকদের সন্ধানে আমার প্রথম দিনই গিয়ে উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল অর্থাৎ সেই ১৯৫৫ সালেই। সেখানে পৌঁছাতে আমার জীবনের ৫৫টি বছর কেটে গেল। কেন এই কাণ্ড হয়েছে আমি বলতে পারব না। এর কারণ আমি আজও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু ঘটে গেছে। যখন এখান থেকে টেলিফোনে নিমন্ত্রণ পেলাম, তখন আমি ভাবলাম, এটা কী হলো? ‘বনলতা সেন’ কবিতায় যেমন জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’ সে কথাটিই মনে হলো তৎক্ষণাৎ। এক-একটা লোভ থাকে জীবনে; সেই লোভটাই ধরা দিল সামনে। প্রথম জীবনে বাবা আমাকে রেগে গিয়ে অকালপক্ক বলতেন। অকালপক্কের ফল হলো- আঠারো-উনিশ বছর বয়সে লিখে ফেললাম। কিন্তু তারপরই বোধহয় ওপরওয়ালা প্রতিশোধ নিলেন। দেখলাম জীবনের অনেক জিনিসপত্র দেরিতেই ঘটে চলেছে আমার ক্ষেত্রে। ৫৫ বছর আগে কী লিখেছি, সেটা হঠাৎ দিল্লি-ইংল্যান্ড বিভিন্ন স্থান ঘুরে হঠাৎ ইংরেজি মাধ্যমে আবার আমাকে এমনসব জায়গায় এনে পৌঁছে দিল যেখানে আমার বহুদিন আগেই উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল। যাই হোক, সেটা অন্য কথা।

এখানকার নিমন্ত্রণও তো ইংরেজি অনুবাদের সূত্রেই?

শংকর : শুনলাম এখানে আমাকে যারা ডেকেছেন, তারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে উৎসাহিত হয়ে আমাকে ডেকেছেন অর্থাৎ ইংরেজি ভাষার পাঠকদের প্রতিও আমার একটা কর্তব্য ঠেকে গিয়েছে। আজ সকালে আমি ভাবলাম_ ঢাকায় এসেছি, দুটো কথা বাংলায় বলব না, এটা কী করে হয়! সে জন্যই ওদের অনুমতি চাইলাম। ওরা সানন্দেই অনুমতি দিলেন। আমার জীবনের প্রথম পর্ব অর্থাৎ প্রথম বইটার কথা কিছু ওদের বলেছি। দ্বিতীয় পর্বটার ব্যাপারে ভেবেছিলাম, যেহেতু ইংরেজি মাধ্যমের আয়োজন; কয়েকটা কথা ইংরেজিতেই বলি। ইংরেজিতে বলার অসুবিধা অনেক। একবার ভাবতে হয় কী বলব, তারপর আবার ভাবতে হয় কেমন করে বলব। এটা শুধু ভাষার ব্যাপারে লজ্জা পাওয়া নয়। আমার এক বন্ধু সিলেটে আছেন। তিনি বললেন, তোমাদের তো খুব সুবিধে, যেখানে বক্তৃতা করতে যাও কী বলবে একটু ভেবে নিলে এবং বক্তৃতা করলে। আমি সিলেটি, আমাকে তো প্রথমে ঠিক করতে হয় কী বলব, তারপর সেটাকে বাংলায় ট্রান্সলেট করতে হয়। আমি বানিয়ে কিছু বলছি না। এখানে একটা জিনিস দেখে ভালো লাগল যে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি চর্চায় একটা প্রাণের স্পর্শ দেখতে পেলাম। আমার মনে হলো, এটা ভীষণ দরকার। ইংরেজি ছাড়া আমাদের চলবে না। ইংরেজিকে রেখেই আমাদের নিজস্ব সৃষ্টির আনন্দে মত্ত হতে হবে। এবং এটাও শেষ জীবনে এসে বুঝলাম যে, ইংরেজির মাধ্যমে না হলে বিশ্বের অন্যত্র পৌঁছানো বড় কঠিন। এই চেষ্টা কীভাবে শুরু হয়েছিল? ঠিক একশ’ বছর আগে। এই ১৯১০-১১ সালেই রবীন্দ্রনাথ তার ইংরেজি বই ছাপার জন্য কী করেছিলেন সেটা অনেকেই জানেন।

ঢাকায় এসে কেমন লাগছে?

শংকর : চমৎকার অনুভূতি হচ্ছে। এখানকার মানুষের আবেগ আমাকে স্পর্শ করেছে। ঢাকার অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে আমার জন্য আনন্দের এবং সমীহের। আমি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছি। আমি মনে করি, যে লেখকরা জীবিত অবস্থাতেই তরুণ পাঠকদের কাছ থেকে স্বীকৃতি ও সম্মান পান তারা ভাগ্যবান।

কয়েকটি প্রজন্ম আপনার মুগ্ধ পাঠকআপনার নিবিষ্ট পাঠকের তালিকায় পঞ্চাশ-ষাট দশকের মানুষ যেমন আছেন, তেমনি আছেন তরুণতর প্রজন্মের মানুষওএভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম কীভাবে পৌঁছালেন?

শংকর : জানি না ভাই। দেখলাম, দেখে আনন্দ হলো এটা বলতে পারি। কোনো প্লান করে, পরিকল্পনামাফিক কিছু করিনি। হবে, এটাও ভাবিনি। পেলাম, এটাই জীবনের সার্থকতা।

আপনি যখন লিখতে শুরু করেন তখন বাংলা বই ও বাঙালি পাঠকের অবস্থা কেমন ছিল?

শংকর : আমার মনে হয় না কিছু বদলেছে। এসব তো শেয়ারমার্কেট নয় যে আজ একরকম, কাল একরকম। একটা ধারাবাহিকতা আছে। একটা নিবিষ্ট পাঠকগোষ্ঠী আছে, যারা বাংলা বই পড়তে পছন্দ করে। আর সংখ্যার দিক থেকে যদি বলেন আমরা যত মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলি তাতে আমাদের দাপট তো অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল। সেটার কতটুকু আর হয়েছে? ফরাসি দেশে ক’টা লোক থাকে, ইতালি-স্পেনে ক’টা লোক আছে? তাদের ভাষায় ক’টা লোক কথা বলে? সে তুলনায় আমাদের ভাষাভাষী মানুষের যে প্রাচুর্য রয়েছে তা তো আমরা এখনও কাজে লাগাতে পারিনি। ভাবুন, আমাদের ভাষায় ২৫ কোটি মানুষ কথা বলে।

সম্প্রতি আপনার সম্পর্কে ইন্টারনেটে খোঁজ-খবর করতে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে আপনাকে বাজার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বলা হচ্ছে

শংকর : এটা কে বলেছে আমি জানি না। কেন বলেছে তা-ও জানি না। আমি বইয়ের মার্কেটিং করিনি। যে যেটা করে না বা জানে না সে অভিধা দেওয়া আমাদের জাতীয় ধর্ম। এ প্রশ্নটা আমি একজনের কাছে শুনলাম। আমি বললাম, মার্কেটিং তো বিষয় নয়, ভালো লিখতে পারি কি-না সেটাই বিষয়। তখন বলল, এক ব্যাগ শংকর বের করেছিলেন, সেটা তো মার্কেটিং। আমি বললাম, তুমি কি বাংলা বইয়ের খবর রাখো? বলো তো, কোন বাংলা বইটা সবচেয়ে জনপ্রিয় এখন পর্যন্ত? সে বলল, কোনটা? আমি বললাম, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। ঠাকুরমার ঝুলিই আমার বেলায় এসে ব্যাগ হয়েছে। এর মধ্যে মার্কেটিংয়ের কী আছে? যদি বলতে বাজে লিখে প্রতারিত করেছে লেখক তবে তা বলো। ইচ্ছা হলে বলো। আমি তো কোনো কিছু দাবি করিনি।

কিন্তু আপনি তো মার্কেটিং নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করেছেন

শংকর : আমি বিশ্বাস করি বাঙালিকে ব্যবসায় আসতে হবে।

আপনি বলছিলেন, বিত্তসাধনার ব্যাপারে

শংকর : হ্যাঁ, বিত্তসাধনায় আমি বাঙালির অগ্রযাত্রা দেখতে চাই। আর এজন্য লেখকদের কিছু ভূমিকা থাকতে হবে। আমরা তো আর কিছু পারি না, উৎসাহ দিতে পারি।

আপনি বলছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি পিছিয়েছে

শংকর : শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, সব জায়গাতেই পিছিয়েছে। বিত্তসাধনায় আমরা পিছিয়ে গিয়েছি।

আপনি বলছেন এতদিন পর এলাম, এতদিন পর পুনরায় আবিষ্কৃত হলাম_ এবারের ভ্রমণ নিয়ে কি লিখবেন?

শংকর : লোভেরও তো একটা শেষ থাকা দরকার। লোকে বলবে, বুড়ো আর কতদিন জ্বালাবে। এতদিন নাকি একজন ভেবেছে যে, বুড়ো মরে গেছে। বিদায় হয়েছে আর কিছু করবে না। কিন্তু বেঁচে আছে শুনে বলছে, ওরে বাবা বেশি কিছু বলা যাবে না, তাহলে আবার কী করবে কে জানে। আবার গ্যাজ গ্যাজ করতে শুরু করবে। সেজন্য মধ্যদিনের পাখি অনেক সময় চায় গান বন্ধ হোক।

আপনি ‘চৌরঙ্গী’ লিখলেনতারপর তো নিউমার্কেট হয়েছেএখন তো শহর কত বদলেছে

শংকর : বয়স একটু কম থাকলে নিউমার্কেট নিয়ে লেখা যেত, মন্দ হতো না। কারণ একে একটা যুগ বলতে পারেন। এই যে কতদিন ধরে কত মল-টল কী হচ্ছে! তাতে নিউমার্কেট টিকে থাকবে কি-না জানি না। কিন্তু ব্যবসায়ে বাঙালি, বিত্তের সাধনায় বাঙালির শেষ কতগুলো সাধনার চিহ্ন ওখানে থেকে গেছে। বাঙালির তো কিছুই থাকে না। সবই গেছে। আপনাদের এখানে দেখলাম, এখানে যত ভালো ভালো বাড়ি আছে সব নাকি বাঙালির। আমি বললাম, কেন ভাই আমাকে মিথ্যে কথা বলছ। আমাকে বলল, না, এটা সত্যি। তার মানে পৃথিবীর একমাত্র সত্যি শহর ঢাকা, যেখানে এখনও বাঙালির বাড়িঘর সব কিছু রয়েছে। এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হচ্ছে।

আমাদের ওখানে আর সত্য নেই। আপনাদের এখানে এসে ভালো লাগছে। ফিউচার তো জানি না, তবে বর্তমান বলছে এগুলো বাঙালিদের বাড়ি। এটা কত বড় আনন্দের কথা তা আমি আপনাদের বিশ্বাস করাতে পারব না। ভীষণ আনন্দ পেলাম, জানেন? সত্যি, বিত্তসাধনায় বাঙালিকে আবারও জেগে উঠতে হবে।

লেখক হতে গেলে কী লাগে?

শংকর : লিখতে চাইলেই লিখবেন। এর জন্য তো লাইসেন্স লাগে না। মদের দোকান খুলতে গেলে লাইসেন্স লাগে, ড্রাইভিং করতে চাইলে লাইসেন্স লাগে। লেখক হতে গেলে কোনো অ্যাপ্লিকেশনও করতে হয় না।

আপনি কীভাবে লিখতে শুরু করলেন?

শংকর : সেটা পাকেচক্রে ঘটেছে। আমাদের পরিবার খুব সংগ্রামী ছিল। আমার বাবা যশোরের বনগাঁ থেকে কলকাতার কাছে হাওড়ায় মাইগ্রেট করেছিলেন। আমার বাবা অসুখে ভুগে মারা গিয়েছিলেন তিন সন্তান রেখে। আমি আমার বাবার দ্বিতীয় বিবাহের দ্বিতীয় সন্তান। আমার তেরো বছর বয়সে বাবা মারা যান। আমার মা ইন্স্যুরেন্স পলিসির ওপর ভর করে সংসার চালাতেন।

আমার বয়স যখন ১৬ তখন মা আমাকে বলেছিলেন, আমাকে আয় করতে হবে। তখন আমার দেখা হলো নোয়েল ফ্রেড্রিক বারওয়েলের সঙ্গে। তিনি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এবং ব্রিটিশ বারের সদস্য। তার দফতরে আমি ক্লার্ক হিসেবে যোগ দিলাম। বারওয়েলের উৎসাহে তার দফতরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আমি লিখলাম আমার প্রথম বই।

এভাবেই ৭০ রুপি মাসিকে চাকরি করা একটি বালক লেখক হয়ে গেল। আমার অনুতাপ একটাই, আমার নামের মণিশংকর মুখার্জির প্রথম ও শেষ অংশ কেটে ফেলে শুধু শংকর নামেই বের হলো ‘কত অজানারে’। ৫০ বছর পরও বইটির কথা মানুষ মনে রেখেছে, এটা আমার আনন্দ। আরও খুশীর ব্যাপার হলো ঢাকা থেকে ফিরে নভেম্বরেই আমি বইটির ইংরেজি অনুবাদ দেখতে পাব। দেরিতে হলো, তবু ভালো।

১৯৫৪ সালে আমি দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ‘কত অজানারে’ লিখতে শুরু করেছিলাম। লেখাটি পাঠকপ্রিয় হয়েছিল এবং সেটাই আমার কাল হলো। দেশ পত্রিকার একজন শ্রদ্ধেয় বড় কর্তা চাইলেন বিনাপয়সায় আমি যেন বইটি একজন প্রকাশককে ছাপতে দিই। আমাকে না জানিয়েই তিনি প্রকাশের ব্যবস্থা করে ফেললেন। দেরি না করে বইপাড়ায় গিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বললেন। আমি ছিলাম গরিব কেরানি। আমি তাকে না বলতে পারিনি।

আপনি শহুরে জীবন নিয়ে লিখেছেন মূলত

শংকর : একটা শহরকে বুঝতে হলে দেখ, সেখানে মানুষের অবস্থা কী? হাউ দে লিভ, লাভ, লাই এবং ডাই। লাই শোয়া অর্থে, আবার মিথ্যা অর্থেও। এই চারটি ব্যাপার খেয়াল করলে একটি শহর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আমি শহরকেই জানি, শহরেই থেকেছি। সেটাই লিখেছি। যে যা জানে তাকে তো সেটুকুর মধ্যেই থাকতে হবে।

শহুরে মধ্যবিত্তের জীবন নিয়ে লেখার ক্ষেত্রে আপনি বাংলা ভাষায় অগ্রগণ্য সাহিত্যিক

শংকর : আমার বিশেষ কিছু দাবি নেই। আমি সেটা বলব না। পাঠকরা ভালোবেসেছে সেটাই আমার সম্বল। তখন বোদ্ধারা বলত বাজে লেখা। এখন সাহেবরা বলছে, তাই হয়তো তাদের মত বদলেছে। তাদের মনে হচ্ছে, তাহলে বোধহয় কিছু থাকলেও থাকতে পারে এর লেখার মধ্যে।

বাংলা ভাষায় আপনার প্রিয় লেখক কারা ছিলেন?

শংকর : অনেকেই ছিলেন। মৃতদের মধ্যে গুরু শরৎচন্দ্র। আর জীবিতদের মধ্যে যাদের পেয়েছি তাদের মধ্যে বিমল মিত্র আছেন, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। আলী সাহেব আছেন। সৈয়দ মুজতবা আলী। এদের সঙ্গে আমার যথেষ্ট দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল।