গ্রন্থালোচনা : ইতিহাসের পাতায় জিয়া-মঞ্জুর-এরশাদ ত্রয়ী

বইবাংলাদেশের সামরিক অভ্যুত্থানগুলোর পেছনের ইতিহাস অনেকটাই অজানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ঠিক কতগুলো সামরিক ক্যু/ প্রতিক্যু হয়েছে, তা বের করা রীতিমতো গবেষণার বিষয়।

তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড এখনো জাতির কাছে অস্পষ্ট। যদিও তাঁর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুরকে অভিযুক্ত করেন কেউ কেউ। তাঁকে আটকও করা হয়। কিন্তু সেনা বিদ্রোহের দায়ে তাঁর বিচার করে শাস্তি দিয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ইতিহাস একে বিচার নয়, হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। এ বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে। Continue reading

প্রতিটি নারীর জীবন এখনও ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’

আন্ডার কন্সট্রাকশানক্যামেরা যখন নারীর দিকে:

বিশ্বব্যাপী নির্মিত ছবিগুলোতে নারীর প্রকৃত অবয়ব যেন অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়। তার সংগ্রাম, চিন্তার গভীরতার চেয়ে স্ক্রিনে উঠে আসে তার গ্ল্যামার। অথচ নারীর যে আরও বহু পরিচয় আছে, সে গল্প বলবে কে? নারীর সেসব বয়ান নিয়েই হাজির হয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন। অধিকাংশ চলচ্চিত্রে যেমন পরিচালকের ক্যামেরা থাকে পুরুষের ওপর। নারীর ভাবনা, তার সংগ্রামের চিত্র উঠেই আসে না। সেখানে রুবাইয়াত নিলেন ইউটার্ন। তিনি ঘরের সেই নারীর দিকেই ক্যামেরা ধরলেন। আবিষ্কার করে দেখার চেষ্টা করলেন নারীর পরিচয়। যেন সারাক্ষণ তার প্রশ্ন, নারী তুমি কে? কি চাও তুমি?

Continue reading

মেহেদী উল্লাহ’র আজব জিজ্ঞাসা

মেহেদী উল্লাহ'র বই

মেহেদী উল্লাহ’র বই

‘আপনারা কোনো ফ্ল্যাটে না গিয়েই কীভাবে বা কিসের ওপর ভিত্তি করে বলতে পারবেন যে, ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটগুলো শিশু ও বৃদ্ধদের বাস উপযোগী না?’ সুনিবিড় আবাসন প্রকল্পের সাবেক ম্যানেজার এই জাতীয় জিজ্ঞাসার সূত্রপাত করেন। আসলে এই জিজ্ঞাসা লেখক মেহেদী উল্লাহ ‘ফ্ল্যাটে শিশু ও বৃদ্ধ নিদারুণ’ গল্পের মাধ্যমে তুলে আনেন। গল্পের প্রধান চরিত্র মুকিত সাহেব চাকরি ছেড়ে এক পক্ষীশালা দিয়েছেন। লেখক অবশ্য এটাকে পক্ষীশালা বলতে নারাজ, কারণ এখানে আরও অনেক প্রাণি আছে। তো, এই মুকিত সাহেব সবাইকে এই প্রশ্ন করেন। যা তার কাছে এক ধাঁধা! Continue reading

Women on Screen: ভিডিও আলোচনা

চলচ্চিত্রে নারী

Continue reading

হিট মাহি, ফ্লপ অগ্নি-২

চলতি বছরের ঈদে তিনটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। তার  মধ্যে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি ‘অগ্নি-২’র প্রতি আছে অধিকাংশ মানুষের আগ্রহ। তার কারণও আছে- গত বছর ‘অগ্নি (২০১৪)’ সিনেমার জনপ্রিয়তা। ‘অগ্নি’ ছবির গল্পের বুনন খুব একটা শক্ত না হলেও সেখানে দেখার মতো অনেক কিছুই ছিল। পর্দায় উপস্থাপনা, লোকেশন, ক্যামেরার কারুকাজ- সব কিছুই ছিল অসাধারণ। বাংলা সিনেমায় প্রোটোগনিস্ট (মূল চরিত্র) চরিত্রে নারীদের খুব কমই দেখা যায়।  মূল চরিত্রে নারীর ভূমিকা, তাও আবার অ্যাকশননির্ভর! এজন্যই ‘অগ্নি’ দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তখন ছবি দেখে চোখ বন্ধ করে অনেকেই বলেছে বাংলা সিনেমায় মাহিয়া মাহির অ্যাকশন নায়িকা হিসেবে ভবিষ্যত উজ্জ্বল। Continue reading

ছবিটি কি ছুঁয়েছে মন?

ছুয়ে দিলে মনবাংলাদেশে সিনেমার বাজার এখন অনেক প্রতিযোগিতার। হলিউড ঢুকে গেছে বহু আগেই, নতুন করে যোগ হয়েছে বলিউড অার টলিউড ছবি। এত প্রতিযোগিতার মধ্যে পরিচালক শিহাব শাহীন হাজির হয়েছেন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ নিয়ে। মূল অালোচনায় যাবার অাগে অনেক পুরনো একটি চ্যাপ্টার ‘ভালো প্রেক্ষাগৃহ সংকট’ নিয়ে পুনরায় কিছু কথা লিখতে হচ্ছে।

কঠিন এই সময়েও ঝলমলে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে সিনেমার বাজারকে। কিন্তু সমস্যা হলো ভালো প্রেক্ষাগৃহ নেই। হাতেগোনা যে কটা আছে, এর মধ্যে বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স অন্যতম। সেদিন মনে হয় শিহাব শাহীন এজন্যই বিচলিত ছিলেন। বিদেশি সিনেমার তোড়ে তার মিষ্টি প্রেমের গল্প দর্শক ‘খাবে’ তো? Continue reading

বিখ্যাত লেখকের “গল্পতুচ্ছ”

10428049_790722654336024_8505702358298027360_nঅনেকদিন ধরে ভাবছিলাম একজন বিখ্যাত লেখকের বই নিয়ে অালোচনা করবো। কিন্তু বিখ্যাত লেখক পাবো কোথায়? লেখক তো সব লেখকই রয়ে গেল, বিখ্যাত কেউ হতে পারলো না। অবশেষে এবছরের বইমেলায় একজন বিখ্যাত লেখকের সন্ধান পেয়ে গেলাম।

প্রিয় বন্ধুরা তিনি হলেন স্ব-ঘোষিত বিখ্যাত লেখক। এ প্রসঙ্গে অবশ্য বইয়ের শেষে লেখক পরিচিতির মধ্যে বলা অাছে- “নিজের ঢোল পেটানোর ব্যাপারেও তার অাগ্রহের কমতি নেই”। সম্প্রতি সময়ে সবাই নিজের ঢোল নিজেই পেটায়। সমস্যা হলো কেউ ইনিয়ে-বিনিয়ে পেটায় অার এই বিখ্যাত লেখক সরাসরি সাহসের সঙ্গে পেটান।

প্রিয় বন্ধুরা, অামি ‘অাশীফ এন্তাজ রবি’ রচিত একটি বই নিয়ে অালোচনা করবো। বইয়ের নাম “গল্পতুচ্ছ”। Continue reading

এত বিতর্ক কেন ‘জিরো ডিগ্রী’ নিয়ে?

Zero-Degree-4সম্প্রতি বেশ অালোচনায় অাছে নির্মাতা অনিমেষ আইচের প্রথম ছবি ‘জিরো ডিগ্রী’। এই ছবি প্রধানত তিনটি চরিত্রকে নিয়ে এগিয়ে গেছে। অমিত চরিত্রে মাহফুজ, নীরা চরিত্রে রুহি এবং সোনিয়া চরিত্রে জয়া। এটি দেখার সময় ভাবছিলাম, ছবিটিকে কোন মানদণ্ডে ফেলব- অ্যাকশন, অার্ট, রোমান্টিক, থ্রিলার নাকি ফ্যান্টাসি।

ছবির কাহিনী নিয়ে বিস্তর অালোচনার অবকাশ নেই। তবুও কিছুটা বলে নেওয়া যায়- এর গল্পের শুরু হয় মাহফুজ এবং রুহির সংসারের গল্প দিয়ে। শহুরে উচ্চমধ্যবিত্ত দম্পতি তারা। রাতে মদ-সিগারেটের অাড্ডা জমে তাদের বাসায়। দুজনের প্রেম, সুখ অার অানন্দ দিয়েই ছবির কাহিনী এগোয়। কাজে ব্যস্ত এই দম্পতির তবুও সন্তানের জন্য ভালোবাসা- স্নেহের কমতি নেই। অর্ক নামে একটি ছেলেকে দুজনই সমানভাবে সময় দেন, ভালোবাসা দেন। মাহফুজ অর্থাৎ অমিতকে পরিচালক সাদামাটা একজন মানুষ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। যেখানে এক জায়গায় মাহফুজ বলে, ‘অামি সাদামাটা, অামি হলাম ওপেন বুক, কোনো রহস্য নেই।’ অন্যদিকে রুহি অর্থাৎ নীরা ক্যারিয়ার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত গতিতে। ঘন ঘন দেশের বাইরে অফিসের কাজে যায় নীরা। এমনটাই পরিচালক বোঝাতে চেয়েছেন।
Continue reading

ফারুকীর কৃষ্ণকলি

Modelসুন্দর। তুমি বড় সুন্দর। যদিও এ জগতের মানুষ সুন্দরের ব্যাখ্যা অাজও ঠিক করে নিতে পারেনি। কারও চোখে কালো সুন্দর, কারও চোখে ফর্সা সুন্দর। কারও কাছে লম্বা কেশ কিংবা দেহের গঠন। কারও কাছে সুন্দর করে কথা বলতে পারাও সুন্দর। তবে কী সুন্দরের কোনো সংজ্ঞা নেই?

অাছে তো! বিশেষ করে নারীর সৌন্দর্য নিয়ে তো অালোচনার শেষ নেই। নারীর অবয়ব কে বা কারা নির্ধারণ করে দেয়? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই সামনে দাঁড়িয়ে যাবে মিডিয়া। তারাই সমাজকে বলে দেয় সুন্দরের সংজ্ঞা। মিডিয়া বা গণমাধ্যম বলতে কতকিছুই তো অাছে। নাটক অাছে, সিনেমা অাছে, বিজ্ঞাপন অাছে। এসবের দিকেই তো সবার নজর। ঘরে ঘরে মেয়েরা তো সাজগোজে মিডিয়ার নারী ক্যারেক্টার ফলো করে থাকে। কিংবা তাদের স্টাইলকে মডিফাই করে নিজের একটা স্টাইল তৈরি করে নেয়। সেটাকে সুন্দর হিসেবে কী ধরে নেয়া যায়?

নাহ! সুন্দর নারী মানে তার সব কিছু। দেখতে ফর্সা, লম্বা, দৈহিক গঠন অাবেদনময়ী, লম্বা কেশ, টানা টানা চোখ। সব মিলিয়েই তো সুন্দর। তবে সুন্দর কাহাকে বলবো? এই প্রশ্নের উত্তরে অামার মুখ থেকেই প্রথম বের হবে, “ফর্সা”।

Continue reading

অগ্নি: নারীর এক ভিন্ন অবয়ব

Agneeবাংলাদেশে সবাক চলচ্চিত্রের বিকাশ শুরু হয় ১৯৫০ দশকে। বাংলাদেশের ‘চলচ্চিত্রকে’ পূর্ণমাত্রা পেতে সময় লেগেছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য থেকে জানা যায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খেতে চলচ্চিত্রের সময় লেগেছে প্রায় ৫০ বছর। ১৯৯০ এর দশকে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৮০টির মত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি পেত। হিসেবে দেখা যায় ২০০০ সালের পর তা সংখ্যায় ১০০-তে গিয়ে ঠেকেছে।

হিসেব যদি এমন হয়, তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পাড়ার পরিসরকে বেশ বড় বলেই বিবেচনা করা যায়। তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও মুলধারার ব্যবসায়ীক নির্ভর সিনেমায় অনেক সময় পরিবর্তনের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্বাধীনতার পূর্বে জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্র শাসকগোষ্ঠীকে ব্যঙ্গ করে নতুন একটি স্টাইলের জন্ম দিতে সমর্থ হয়েছিল। এছাড়াও স্বাধীনতার পূর্বে কবীর চৌধুরী,সাজেদুল আওয়াল, তানভির মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম, তারেক মাসুদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভিন্নভাবে গল্প বলার চেষ্টা করেছেন এবং করছেনও। Continue reading