Women on Screen: ভিডিও আলোচনা

চলচ্চিত্রে নারী

Continue reading

হিট মাহি, ফ্লপ অগ্নি-২

চলতি বছরের ঈদে তিনটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। তার  মধ্যে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি ‘অগ্নি-২’র প্রতি আছে অধিকাংশ মানুষের আগ্রহ। তার কারণও আছে- গত বছর ‘অগ্নি (২০১৪)’ সিনেমার জনপ্রিয়তা। ‘অগ্নি’ ছবির গল্পের বুনন খুব একটা শক্ত না হলেও সেখানে দেখার মতো অনেক কিছুই ছিল। পর্দায় উপস্থাপনা, লোকেশন, ক্যামেরার কারুকাজ- সব কিছুই ছিল অসাধারণ। বাংলা সিনেমায় প্রোটোগনিস্ট (মূল চরিত্র) চরিত্রে নারীদের খুব কমই দেখা যায়।  মূল চরিত্রে নারীর ভূমিকা, তাও আবার অ্যাকশননির্ভর! এজন্যই ‘অগ্নি’ দর্শকদের নজর কেড়েছিল। তখন ছবি দেখে চোখ বন্ধ করে অনেকেই বলেছে বাংলা সিনেমায় মাহিয়া মাহির অ্যাকশন নায়িকা হিসেবে ভবিষ্যত উজ্জ্বল। Continue reading

ছবিটি কি ছুঁয়েছে মন?

ছুয়ে দিলে মনবাংলাদেশে সিনেমার বাজার এখন অনেক প্রতিযোগিতার। হলিউড ঢুকে গেছে বহু আগেই, নতুন করে যোগ হয়েছে বলিউড অার টলিউড ছবি। এত প্রতিযোগিতার মধ্যে পরিচালক শিহাব শাহীন হাজির হয়েছেন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ নিয়ে। মূল অালোচনায় যাবার অাগে অনেক পুরনো একটি চ্যাপ্টার ‘ভালো প্রেক্ষাগৃহ সংকট’ নিয়ে পুনরায় কিছু কথা লিখতে হচ্ছে।

কঠিন এই সময়েও ঝলমলে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে সিনেমার বাজারকে। কিন্তু সমস্যা হলো ভালো প্রেক্ষাগৃহ নেই। হাতেগোনা যে কটা আছে, এর মধ্যে বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স অন্যতম। সেদিন মনে হয় শিহাব শাহীন এজন্যই বিচলিত ছিলেন। বিদেশি সিনেমার তোড়ে তার মিষ্টি প্রেমের গল্প দর্শক ‘খাবে’ তো? Continue reading

বিখ্যাত লেখকের “গল্পতুচ্ছ”

10428049_790722654336024_8505702358298027360_nঅনেকদিন ধরে ভাবছিলাম একজন বিখ্যাত লেখকের বই নিয়ে অালোচনা করবো। কিন্তু বিখ্যাত লেখক পাবো কোথায়? লেখক তো সব লেখকই রয়ে গেল, বিখ্যাত কেউ হতে পারলো না। অবশেষে এবছরের বইমেলায় একজন বিখ্যাত লেখকের সন্ধান পেয়ে গেলাম।

প্রিয় বন্ধুরা তিনি হলেন স্ব-ঘোষিত বিখ্যাত লেখক। এ প্রসঙ্গে অবশ্য বইয়ের শেষে লেখক পরিচিতির মধ্যে বলা অাছে- “নিজের ঢোল পেটানোর ব্যাপারেও তার অাগ্রহের কমতি নেই”। সম্প্রতি সময়ে সবাই নিজের ঢোল নিজেই পেটায়। সমস্যা হলো কেউ ইনিয়ে-বিনিয়ে পেটায় অার এই বিখ্যাত লেখক সরাসরি সাহসের সঙ্গে পেটান।

প্রিয় বন্ধুরা, অামি ‘অাশীফ এন্তাজ রবি’ রচিত একটি বই নিয়ে অালোচনা করবো। বইয়ের নাম “গল্পতুচ্ছ”। Continue reading

এত বিতর্ক কেন ‘জিরো ডিগ্রী’ নিয়ে?

Zero-Degree-4সম্প্রতি বেশ অালোচনায় অাছে নির্মাতা অনিমেষ আইচের প্রথম ছবি ‘জিরো ডিগ্রী’। এই ছবি প্রধানত তিনটি চরিত্রকে নিয়ে এগিয়ে গেছে। অমিত চরিত্রে মাহফুজ, নীরা চরিত্রে রুহি এবং সোনিয়া চরিত্রে জয়া। এটি দেখার সময় ভাবছিলাম, ছবিটিকে কোন মানদণ্ডে ফেলব- অ্যাকশন, অার্ট, রোমান্টিক, থ্রিলার নাকি ফ্যান্টাসি।

ছবির কাহিনী নিয়ে বিস্তর অালোচনার অবকাশ নেই। তবুও কিছুটা বলে নেওয়া যায়- এর গল্পের শুরু হয় মাহফুজ এবং রুহির সংসারের গল্প দিয়ে। শহুরে উচ্চমধ্যবিত্ত দম্পতি তারা। রাতে মদ-সিগারেটের অাড্ডা জমে তাদের বাসায়। দুজনের প্রেম, সুখ অার অানন্দ দিয়েই ছবির কাহিনী এগোয়। কাজে ব্যস্ত এই দম্পতির তবুও সন্তানের জন্য ভালোবাসা- স্নেহের কমতি নেই। অর্ক নামে একটি ছেলেকে দুজনই সমানভাবে সময় দেন, ভালোবাসা দেন। মাহফুজ অর্থাৎ অমিতকে পরিচালক সাদামাটা একজন মানুষ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। যেখানে এক জায়গায় মাহফুজ বলে, ‘অামি সাদামাটা, অামি হলাম ওপেন বুক, কোনো রহস্য নেই।’ অন্যদিকে রুহি অর্থাৎ নীরা ক্যারিয়ার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত গতিতে। ঘন ঘন দেশের বাইরে অফিসের কাজে যায় নীরা। এমনটাই পরিচালক বোঝাতে চেয়েছেন।
Continue reading

ফারুকীর কৃষ্ণকলি

Modelসুন্দর। তুমি বড় সুন্দর। যদিও এ জগতের মানুষ সুন্দরের ব্যাখ্যা অাজও ঠিক করে নিতে পারেনি। কারও চোখে কালো সুন্দর, কারও চোখে ফর্সা সুন্দর। কারও কাছে লম্বা কেশ কিংবা দেহের গঠন। কারও কাছে সুন্দর করে কথা বলতে পারাও সুন্দর। তবে কী সুন্দরের কোনো সংজ্ঞা নেই?

অাছে তো! বিশেষ করে নারীর সৌন্দর্য নিয়ে তো অালোচনার শেষ নেই। নারীর অবয়ব কে বা কারা নির্ধারণ করে দেয়? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই সামনে দাঁড়িয়ে যাবে মিডিয়া। তারাই সমাজকে বলে দেয় সুন্দরের সংজ্ঞা। মিডিয়া বা গণমাধ্যম বলতে কতকিছুই তো অাছে। নাটক অাছে, সিনেমা অাছে, বিজ্ঞাপন অাছে। এসবের দিকেই তো সবার নজর। ঘরে ঘরে মেয়েরা তো সাজগোজে মিডিয়ার নারী ক্যারেক্টার ফলো করে থাকে। কিংবা তাদের স্টাইলকে মডিফাই করে নিজের একটা স্টাইল তৈরি করে নেয়। সেটাকে সুন্দর হিসেবে কী ধরে নেয়া যায়?

নাহ! সুন্দর নারী মানে তার সব কিছু। দেখতে ফর্সা, লম্বা, দৈহিক গঠন অাবেদনময়ী, লম্বা কেশ, টানা টানা চোখ। সব মিলিয়েই তো সুন্দর। তবে সুন্দর কাহাকে বলবো? এই প্রশ্নের উত্তরে অামার মুখ থেকেই প্রথম বের হবে, “ফর্সা”।

Continue reading

অগ্নি: নারীর এক ভিন্ন অবয়ব

Agneeবাংলাদেশে সবাক চলচ্চিত্রের বিকাশ শুরু হয় ১৯৫০ দশকে। বাংলাদেশের ‘চলচ্চিত্রকে’ পূর্ণমাত্রা পেতে সময় লেগেছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য থেকে জানা যায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খেতে চলচ্চিত্রের সময় লেগেছে প্রায় ৫০ বছর। ১৯৯০ এর দশকে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৮০টির মত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি পেত। হিসেবে দেখা যায় ২০০০ সালের পর তা সংখ্যায় ১০০-তে গিয়ে ঠেকেছে।

হিসেব যদি এমন হয়, তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পাড়ার পরিসরকে বেশ বড় বলেই বিবেচনা করা যায়। তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের খুব একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও মুলধারার ব্যবসায়ীক নির্ভর সিনেমায় অনেক সময় পরিবর্তনের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্বাধীনতার পূর্বে জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্র শাসকগোষ্ঠীকে ব্যঙ্গ করে নতুন একটি স্টাইলের জন্ম দিতে সমর্থ হয়েছিল। এছাড়াও স্বাধীনতার পূর্বে কবীর চৌধুরী,সাজেদুল আওয়াল, তানভির মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম, তারেক মাসুদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভিন্নভাবে গল্প বলার চেষ্টা করেছেন এবং করছেনও। Continue reading

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত জীবনী’র অসমাপ্ত রিভিউ

bangabandhu_phবঙ্গবন্ধু একজন নেতা। তিনি কোনো সাহিত্যিক কিংবা কবিও নন। তবে ৭ মার্চে ভাষণের পর তাকে কবি বলতে কারও কোনো আপত্তি থাকারো কথা নয়। কবিতার ছন্দে ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তবে সাহিত্যিক এবং কবির মধ্যে একটি মিল আছে। সেই বিখ্যাত উক্তির মতো করেই বলা যায়, Political Leaders are like poets, born, not made.

যাইহোক। বঙ্গবন্ধু নিজের লেখা আত্মজীবনী নিয়ে অনেকের কথাই শুনি। মন্তব্য কার কি কিংবা কি ধরনের সে বিষয়ে আমি যাবো না। তবে তার লেখায় তিনি নিজে যে পুনরায় প্রাণ পেয়েছেন সে বিষয়ে সন্দেহ নাই।

আমার বিষয় শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি নিয়ে। আত্মজীবনী কেমন হয়? সে বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। আত্মজীবনী মানে নিজের ঢোলটা বেশি পেটানো। নিজেকে ফুটিয়া তোলা। নিজের ভালো দিকগুলা সবার সামনে তুলে বলা, ‘এই হইলাম আমি’। সবকিছুর উর্ধ্বে আমিই ছিলাম। আমি হইলাম আসল হিরো। 

তবে সত্যি কথা বলতে হইলো, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু হিরো নন। হিরো হইলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। অধিকাংশ অধ্যায় জুড়েই সোহরাওয়ার্দীর কথাই বলতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তার রাজনৈতিক জীবনে শহীদ সাহেবের প্রভাব যে কতটা স্পষ্ট তা বইটি পড়লেই ঝকঝক হয়ে উঠবে। Continue reading

পুঁজিবাদের আড়ালে ব্লাড ডায়মন্ড!

blood diamond

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে বহু চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হলিউডের চলচ্চিত্রে এসব দাঙ্গার চিত্র ফুটে উঠতে দেখা গেছে। তেমনই একটি ছবি ‘ব্লাড ডায়মন্ড’। এডওয়ার্ড জিকের পরিচালনায় ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সিয়েরা লিওনের পটভূমিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ব্লাড ডায়মন্ড। এই সিনেমা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক গ্রেগ ক্যাম্বেল ২০০১ সালে দেশটিতে গিয়ে সরেজমিনে ডায়মন্ড ব্যবসা দেখার পর ২০০২ সালে প্রকাশ করেন তার অন্যতম বই ‘ব্লাড ডায়মন্ড- ট্রেসিং দ্য ডেডলি পাথ অব দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট প্রিশিয়াস স্টোন্স’।
Continue reading

বিচারে-বিশ্লেষণে ‘আকাশ কত দূরে’

Akash Koto Dureচলচ্চিত্র সমালোচনা বিষয়টি খুব খারাপ। পরিচালকের তীব্র সংগ্রামের মধ্যেই তৈরি হয় একটি সিনেমা। অনেক কষ্ট-হতাশা-ক্ষোভ-পরিশ্রম থাকে সিনেমায়। কিন্তু সিনেমাহল থেকে বের হয়ে কোনো দর্শক যদি বলে বসে, ‘নাহ্ ছবি জমে নাই’। তখন যেন পরিচালকের সব শ্রমই বৃথা গেল!

২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় সামিয়া জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আকাশ কত দূরে’। এটি সামিয়া জামানের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। সরকারি অনুদানে তার প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র।

সিনেমাটি তৈরিতে সহযোগী হয়েছেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও ভার্সা মিডিয়া। জুলফিকার রাসেলের রচনা ও চিত্রনাট্যে তৈরি হয়েছে আকাশ কত দূরে। Continue reading